বাংলাদেশ-ভারত নতুন বিদ্যুত্ লাইন হচ্ছে

ভারত থেকে আরো ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করতে একটি নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে ভারতের বহরমপুর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনটির বাংলাদেশ অংশের কাজ আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরই এটির নির্মাণ কাজ শুরু করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দুইটি বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন রয়েছে। এর একটি ভেড়ামারা-বহরমপুর লাইনে ৫০০ মেগাওয়াট এবং অপরটি ত্রিপুরা-কুমিল্লা লাইনে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বাংলাদেশে আমদানি হচ্ছে।

বিদ্যুত্ বিভাগ ও পিজিসিবি সূত্র জানায়, নতুন লাইনটির নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১১তম জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে ভেড়ামারা-বহরমপুর দ্বিতীয় ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এ লাইন নির্মাণে দুই দেশের যৌথ কারিগরি দল (জেটিটি) সম্ভাব্যতা জরিপও করে ওই বছরেই। জরিপে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও আগামী জুনের মধ্যেই এ কাজ শেষ করতে চায় পিজিসিবি।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ভেড়ামারা ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি হাইভোল্টেজ ডাইরেক্ট কারেন্ট (এইচভিডিসি) ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন আছে। এছাড়াও ভেড়ামারা থেকে বহরমপুর পর্যন্ত ৪০০ কেভি একটি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বৈদ্যুতিক গ্রিডের একটি আন্তঃসংযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ এ আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানি করছে। ভেড়ামারা এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন উপকেন্দ্রটি ৫০০ মেগাওয়াট থেকে ১০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার কাজ চলছে। এই ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ ভেড়ামারা-বহরমপুর বিদ্যমান ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যভাবে আমদানি করা যাবে না। এ কারণে দ্বিতীয় ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটির আর্থিক প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০১০ সালের বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ভারত থেকে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের কোনো পয়েন্ট থেকে কত পরিমাণ বিদ্যুত্ আমদানি করা হবে তা নির্ধারিত না হওয়ায় একই এলাকায় এখন একাধিক সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। আগে থেকে এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হলে ভেড়ামারা-বহরমপুর প্রথম লাইনটির ক্ষমতা শুরুতেই আরো বাড়ানো যেত। তাহলে নতুন আরেকটি লাইন নির্মাণের প্রয়োজন হত না। অর্থ এবং জমির অপচয়ও রোধ করা যেত।

বিদ্যুত্ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী বছরের গরম মৌসুমে লোডশেডিং বৃদ্ধির শঙ্কা করছে সরকার। ওই পরিস্থিতি সামলাতে দেশে দ্রুত উত্পাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারত থেকে আরো বিদ্যুত্ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। সে অনুযায়ী দ্বিপক্ষীয় আলোচনাও চলছে। তাই আগামী জুনের মধ্যে নতুন সঞ্চালন লাইনটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে চাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।