রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি

রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্রের ওপর থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। রবিবার রাতে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি তাদের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। যদিও বিদ্যুত বিভাগের প্রতিনিধি দল পোলান্ড সম্মেলন থেকে ফিরে জানিয়েছিল, রামপাল নিয়ে ইউনেস্কো অবস্থান বদল করেছে। তখন দেশীয় পরিবেশবাদীদের সঙ্গে বিএনপিও এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার বলছে, গত ১২ জুলাই কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর রবিবারই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল হেরিটেজ কমিটি। এতে রামপালের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে সুন্দরবন এলাকাতে আর কোন বড় অবকাঠামো নির্মাণ করার আগে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়েছে।

হেরিটেজ কমিটি বলছে, বাংলাদেশ তাদের জানিয়েছে রামপাল ইউনিট-২ এবং সুন্দরবনের পাশে ওরিয়নের কয়লাচালিত বিদ্যুতকেন্দ্র দুটি তারা নির্মাণ করবে না। আর পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে।

রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট, ওরিয়ন বিদ্যুতকেন্দ্র এমনকি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন না করে সুন্দরবনের আশপাশে আর বড় কোন স্থাপনা করা যাবে না। এমন শর্ত জুড়ে রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প থেকে ইউনেস্কো নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। পোলান্ড থেকে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।

বাংলাদেশ ক্রাকো সম্মেলনের কমিটির সদস্য না হওয়ায় তুরস্ক বাংলাদেশের পক্ষে প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করে। এই কমিটির সদস্য রাষ্ট্র ২১টির মধ্যে ১২টিই রামপালের বিষয়ে অনাপত্তি জানায়। এতে করে বাংলাদেশের পক্ষে সিদ্ধান্ত আসতে ভোটের প্রয়োজন হয়নি।

রবিবার রাতে ইউনেস্কো যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সেটির ১০৪ পাতায় সুন্দরবন বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। হেরিটেজ কমিটির এই সিদ্ধান্তের পর রামপাল নিয়ে বিতর্ক কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ইউনেস্কোর রিপোর্টে যে সুপারিশগুলো করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করতে হবে বাংলাদেশকে। আর কয়লা পরিবহনে পশুর নদী খনন করার আগেই এই পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।