পশ্চিমের চার জেলা থেকে মুগ ডাল রপ্তানি

পশ্চিমের জেলাগুলোতে মুগ ডালের চাষ বাড়ছে। ৪টি জেলা থেকে মুগ ডাল বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। ভাল দাম পেয়ে চাষিরা খুশি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সুত্রে জানা যায়, এবার যশোর জেলায় ১ হাজার ৪৪৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ৪ হাজার ৮৯১ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ৬৫২ হেক্টরে, কুষ্টিয়া জেলায় ৫০৫ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টরে ও মেহেরপুর জেলায় ৫৯ হেক্টরে গ্রীস্মকালীন বারি মুগ-৬ এর চাষ হয়েছে। এ মুগের ফলন ভাল। এবার হেক্টর প্রতি গড় ফলন হয়েছে এক দশমিক ৬১ টন।

আর্ন্তজাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) এর অর্থায়নে পল্লী সহায়ক ফাউন্ডেশনের ‘প্যচি’ প্রকল্পের সহযোগিতায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আর আর এফ) রপ্তানির জন্য কৃষকদের উন্নত মানের মুগ ডাল চাষে সহায়তা দিচ্ছে। চার জেলার ১০ উপজেলায় ১০ হাজার কৃষক মুগ ডাল চাষ করেছে। আর আর এফ’র মুগ ডাল উত্পাদন প্রকল্পের সমন্বয়ক শাহনাজ বেগম জানান, মুগ ডাল চাষে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। লাইন করে বীজ বপন ও চাষে বায়ো ফার্টিলাইজার ব্যবহার করা হচ্ছে। জাপানী সংস্থা গ্রামীন ইউগ্নেনা এবার ২৮ টন মুগডাল কিনে জাপানে রপ্তানি করবে। প্রতি কেজি ডাল ৮০ টাকা দরে চাষিদের কাছ থেকে কিনেছে তারা। ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও যশোর জেলার চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ডাল কিনেছে। গ্রামীণ ইউগ্লেনা সুত্রে জানা যায়, জাপানীরা মুগ ডাল অংকুরিত করে মুগাংকুর তৈরি করে। মুগাংকুর সালাদ হিসাবে খাওয়া হয়। মুগাংকুর জাপানে খুব জনপ্রিয় খাবার।

চাষিরা জানায়, এনজিও আর আর এফ অর্ধেক দামে মুগ ডাল বীজ সরবরাহ করেছে। বিনা মূল্যে সার ও সে সাথে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। চাষিরা আরো জানায়, এক বিঘা জমিতে মুগ ডাল চাষে ১২-১৩ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘা প্রতি ১৫-১৬ মন ফলন হয়। অল্প সময়ে মুগ ডাল চাষ করে অন্য ফসলের চেয়ে ভাল লাভ হচ্ছে।