চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্বাবলম্বী হয়েছে ৯১ জন ভিক্ষুক

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূলে চট্টগ্রাম জেলার ভিক্ষুকদেরকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক উপজেলায় ১৫ জন করেÑ ১৫ উপজেলায় ২২৫ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসনের কাজ চলছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতেও এ কার্যক্রম চালু করা হবে। ইতোমধ্যে ৯১ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এরমধ্যে- পটিয়ায় ১০ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ১৫ জন, ফটিকছড়িতে ১৫ জন, সাতকানিয়ায় ৫০ জন ও মহানগরে ১ জন। স্থানীয় তহবিল ও স্বচ্ছল ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, সমিতির অর্থায়নে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এক সময় যারা থালা হাতে মানুষের কাছে হাত পাততো তাদেরই এখন কেউ কাপড় সেলাই করে, কেউ রিকশা চালায়, কেউবা ছোট্ট চা দোকান করে জীবন নির্বাহ করছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ছোট্ট অথচ শুভ একটি উদ্যোগ আর বিত্তবানদের সহযোগিতায় একসময়ে জীবনের অভিশাপ হয়ে থাকা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আজ তারা স্বাবলম্বী হওয়ার পথে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী জানান, ‘সাসটেনবল ডেভলপমেন্ট গোল বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এক নম্বর গোল হচ্ছে সকল পর্যায়ের দারিদ্র্য নির্মূলকরণ। এরই আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ক্ষুধামুক্ত এবং মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আমরা নগরী ও ১৫ উপজেলাসহ সমগ্র জেলাজুড়ে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। পুরো জেলায় ভিক্ষুক মুক্তকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামে মানব সম্পদের অবদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাইয়ের পর পুনর্বাসনযোগ্য ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাইমেশিন, রিকশা, ভ্যান, টি-স্টল, ছোট আকারের হাঁস-মুরগির খামারসহ ব্যবসার উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নিজেই উপস্থিত থেকে তাদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দিচ্ছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজন অনুযায়ী ভিক্ষুকদের প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জেলাজুড়ে নাম-ঠিকানা, ছবিসহ পুনর্বাসনযোগ্য ভিক্ষুকদের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ বাস্তবায়ন করছে। ডেটাবেজের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে জেলার সকল ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাসস