মনপুরা হাসপাতালে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স, খুশি দ্বীপবাসী

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরায় স্বাস্থ্য সেবা জনগণের মাঝে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স। মূমুর্ষূ রোগীদের দ্রুত জেলা সদরে স্থানান্তর ও উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্সটি শুক্রবার সকাল ৬টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে  বিকাল ৫টায় মনপুরার হাজির হাট ঘাটে এসে পৌঁছায়। শত শত লোক হাজির হাট ঘাটে এসে অ্যাম্বুলেন্সটি দেখার জন্য ভিড় করেন। সাধারণ মানুষের মাঝে খুশির আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি শিগগিরই চালু করা হবে বলে জানা গেছে।
মনপুরার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলো থেকে উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিত্সা দেওয়ার জন্য অথবা দ্রুত অন্যত্র নেওয়ার জন্য পুর্বে কোন ব্যবস্থা ছিলনা। সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল ঢাকাগামী একটি লঞ্চ, সি-ট্রাক ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। বিগত দিনে যোগাযোগের অভাবে বহু রোগী বিনা চিকিত্সায় প্রাণ হারিয়েছেন। সংকটাপন্ন রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিত্সা দেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রশিদের উদ্যোগে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিসেস শেলিনা আকতার চৌধুরীর আন্তরিক চেষ্টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৫শত টাকা। ধারন ক্ষমতা ১৫ থেকে ২০জন। গতিবেগ ঘন্টায় ৭ থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল। ঘন্টায় ৪ লিটার ডিজেল ব্যয় হবে। এতে উপজেলা সদর থেকে তজুমুদ্দিন ও চরফ্যাশন উপজেলায় আসতে সময় লাগবে ১ থেকে সোয়া ঘন্টা।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রশিদ বলেন, আমার একার চেষ্টায় নয়, স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটি পেয়েছি। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। মন্ত্রণালয় প্রস্তাব অনুমোদন করে। তিনি আরও বলেন, নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি স্থানীয় লোকজন দ্বারা গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ওই কমিটি এর ভাড়া নির্ধারণ করবে। অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্বোধনের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। উপমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে দ্রুত উদ্বোধন করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি মিসেস শেলিনা আকতার চৌধুরী বলেন, এর ফলে স্বাস্থ্য সেবা আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।  গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব হবে।