হূদরোগ চিকিত্সায় এক ক্লিকেই মুশকিল আসান

হূদরোগে আক্রান্তরা বেশিরভাগই বয়স্ক। তারা প্রায়ই ভুলে যান কখন কোন্ ওষুধ খাবেন, কোন্ তারিখে কখন কোন্ চিকিত্সকের কাছে যাবেন, কোন্ রির্পোট কোন্ চিকিত্সকে দেখাবেন। যদি রোগীকে ওষুধ খাওয়া, চিকিত্সকের কাছে যাবার সময় এলার্ম দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়; তা হলে কেমন হয়? এখন থেকে হূদরোগীরা সেই সুবিধাই পাবেন ‘ই-হার্ট অ্যাপ’-এর এক ক্লিকেই। শুধু ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের হূদরোগীদের জন্য অ্যাপটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আরবান ল্যাব। এতে সহায়তা করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন (এনএইচএফ) অডিটোরিয়ামে ‘হূদরোগ চিকিত্সা ব্যবস্থাকে মানুষের কাছে আরো উন্নত ও সহজতর করার’ লক্ষ্যে ‘ই-হার্ট অ্যাপ’-এর উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক।

অনুষ্ঠানে ই-হার্ট অ্যাপ সম্পর্কে বলা হয়, এই অ্যাপে রোগীর প্রোফাইল, রিস্ক স্কোর, অ্যাপয়েনমেন্ট, প্রেসক্রিপশন, রেস্ট রেজাল্টস, রিস্ক ট্রেন্ড, ফলোআপ, হার্ট রেইট অপশন রয়েছে। হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগীদের হাসপাতাল কর্তৃক হাসপাতাল আইডি বা নিজেরা অ্যাপ ডাউনলোড করে রেজিস্ট্রেশন করে লগইন করতে পারবে। রোগীর প্রোফাইলে রোগীর নাম, বয়স, উচ্চতা, ওজন, রক্তের গ্রুপ, রোগের ধরন এ সব থাকবে। রিস্ক স্কোরে রোগীর ঝুঁকির হিসাব থাকবে। প্রধানত এ রোগীর কোলেস্টেরল, এইচডিএল কোলেস্টেরল, সিস্টোলিক রক্তচাপ, রোগীর বয়স, লিঙ্গ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানের ক্ষেত্রের তথ্য ঝুঁকি স্কোর গণনা করতে ব্যবহূত হবে। স্কোর অনুযায়ী রোগীর একটি গ্রাফ তৈরি হবে। রিস্ক স্কোরে মডিউলে ক্লিক করে রোগী তার ঝুঁকি স্কোর দেখতে পারবেন।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট মডিউলে, হূদরোগী তার পছন্দের চিকিত্সকের নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন। এখানে হার্ট ফাউন্ডেশনের চিকিত্সকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রেসক্রিপশন মডিউলে এ অ্যাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে— এখানে রোগীর রোগ অনুযায়ী চিকিত্সক ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেবেন। কোন্ ওষুধ কখন খেতে হবে, তা থাকবে। রোগী ওষুধ সেবনের সময় অনুযায়ী গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে এলার্ম দিয়ে রাখলে, সময়মত এলার্ম রোগীকে তা জানিয়ে দেবে। প্রতিটি ওষুধের সাথে এলার্ম সেট করার সুযোগ থাকবে। তবে এনএইচএফ নিবন্ধিত ব্যবহারকারী কেবলমাত্র হাসপাতাল আইডি দ্বারা লগইন করলে হাসপাতাল থেকে নির্ধারিত ওষুধের তালিকা দেখতে পাবেন। ফলোআপ মডিউলে রোগী কখন কোন্ চিকিত্সকের সাথে সাক্ষাত্ করবেন তা উল্লেখ থাকবে। গুগল ক্যালেন্ডার থেকে তারিখ, সময় সেট করে দিলে এলার্ম দিয়ে রোগীকে তা জানিয়ে দেবে। অর্থাত্ এক ক্লিকেই হার্টের রোগীরা সব ধরনের চিকিত্সাসহ সেবা পাবেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আনিসুল হক বলেন, হূদযন্ত্রের রোগীরা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তাদের চিকিত্সার ক্ষেত্রে একটু এদিক ওদিক হলে সমস্যা হয়ে যায়। রোগীরা এ ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করে নিয়মিত চিকিত্সা, ওষুধ সেবন করতে পারবেন। এতে রোগীর সময় সাশ্রয়ী হবে, হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন, চিকিত্সকদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, হূদরোগী সেবা প্রদানে এ অ্যাপ ঢাকা কেন্দ্রিক না রেখে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব) আব্দুল মালিক, বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বুয়েট, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, আইসিটি বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব কালিফোর্নিয়া ব্রাকলি এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।