ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যুক্ত হচ্ছে পানগাঁও আইসিটি

ঢাকা-মাওয়া-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সঙ্গে পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি)-কে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পানগাঁও থেকে হাসনাবাদ পর্যন্ত ৯০ ফুট চওড়া রাস্তার পরিমাণ ২৮ দশমিক ৪৮ একর, যার মধ্যে দুই লেনের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত কমিটি পানগাঁওয়ের সংযোগ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণসহ ওই সড়কটিকে কীভাবে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ও বাইপাসের মাধ্যমে সাভার-আশুলিয়া-টঙ্গী-গাজীপুর-কালিয়াকৈর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সংযুক্ত করা যায় সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়ন করবে। এ দুটো মহাসড়কের সঙ্গে পানগাঁও আইসিটিকে সংযুক্ত করতে পারলে নৌপথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পণ্য আনা-নেওয়া বাড়বে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে নৌপথে পণ্য পরিবহন বাধ্যতামূলক করে দেওয়া; পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালের (আইসিটি) যান্ত্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; দুই লেন সংযোগ সড়ক রাস্তা চার লেনে উন্নীত করা এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সঙ্গে বাইপাসে সংযুক্তি স্থাপন করে সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, কালিয়াকৈর ময়মনসিংহ সড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। সূত্র জানায়, পানগাঁও আইসিটি থেকে হাসনাবাদ পর্যন্ত বিদ্যমান লেন রাস্তার দুই পাশে দুটি সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নীত করার বিষয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে ১০ জুলাই আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। ওই সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটি কর্তৃক প্রতিবেদন দাখিলের পর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে আরেকটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপথ অধিদফতর (বিআইডব্লিউটিএ) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) যৌথভাবে ঢাকার কেরানীগঞ্জে পানগাঁও আইসিটি নির্মাণ করে। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। এরপর এ নৌ টার্মিনালটি চালুর জন্য বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ হারে ট্যারিফ রেট কমানো হয়। বাধ্যতামূলক আমদানি-রপ্তানির একটি অংশ চবক থেকে পানগাঁও পরিবহনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ঢাকায় রোড শো এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী ও জাহাজ মালিকদের সঙ্গে করা হয় একাধিক বৈঠক। এর পরও পানগাঁও আইসিটির ব্যবহার তেমন একটা বৃদ্ধি পায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পানগাঁও-চট্টগ্রাম-পানগাঁও রুটে চবক কর্তৃক সংগৃহীত তিনটি কনটেইনার জাহাজ বেসরকারি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া বেসরকারি সংস্থার এমভি হারবার-১ ও এমভি কেএসএল প্রাইড নামে দুটি জাহাজ চলাচল করছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কেএসএল-গ্লাডিয়েটর ও এমভি সামায়েল নামে আরও দুটি জাহাজ তৈরি আছে। এ ছাড়া নৌ কল্যাণ অধিদফতরের এমভি নৌ কল্যাণ-১ নামে একটি জাহাজ ভারতের সঙ্গে কোস্টাল শিপিংয়ের আওতায় কলকাতা থেকে সরাসরি পানগাঁও পর্যন্ত চলাচল করছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, পানগাঁও আইসিটির সক্ষমতার শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য এর যান্ত্রিক উপকরণের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে শিপ-টুশোর গ্যান্ট্রি, রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি, ভেরিয়েবল রিচ ট্রাক, ট্রেইলারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি উদ্যোগের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। যেমন অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে সব কনটেইনার শিপিং কোম্পানির তাদের মোট আমদানি-রপ্তানির ১০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ নৌপথে বাধ্যতামূলক পরিবহনের বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা যেতে পারে। অন্যথায় ওই ১০ শতাংশ কনটেইনারের বিপরীতে পরিবেশ সারচার্জ আরোপ করা যেতে পারে।