সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরা পল্লীতে টিকাদান শুরু

সীতাকুণ্ডের মধ্যম সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পল্লীতে হাম প্রতিরেধে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী অনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, সীতাকুণ্ডের নয়টি ত্রিপুরা পল্লীতে এই কার্যক্রম চলবে; যা মনিটরিং করা হবে। স্যাটেলাইট কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রমও চলবে। নৃ-জনগোষ্ঠীর কোনো লোক সরকারি স্বাস্থ্য সেবার বাইরে থাকবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির আহমদ, উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম রাশেদুল করিম।

এদিকে, সীতাকুণ্ডে হামে আক্রান্ত আরো দুইজনকে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি সংযুক্ত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে মধ্যম সোনাইছড়ির ত্রিপুরা পল্লী থেকে স্বাস্থ্য কর্মীরা গিয়ে দু’জনকে নিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি করান। আক্রান্তরা হলেন, লহ্মীচরণ ত্রিপুরার ছেলে জীবন ত্রিপুরা (১৮) ও নবীণকুমার ত্রিপুরার মেয়ে বিশ্ববালা ত্রিপুরা।

গত সপ্তাহে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৯০ জনের বেশি। এদের মধ্যে বুধবার দুইজনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেন চিকিৎসকরা। এর আগে মঙ্গলবার ছেড়ে দেওয়া হয় ১৯ শিশুকে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৪ জন ও ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি সংযুক্ত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছে।

ফৌজদারহাট বিআইটিআইডির সহকারী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, অজ্ঞাত রোগটি নিশ্চিত হওয়ার পর আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। যারা সুস্থ হচ্ছে তাদের পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী টিকা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুলাই ত্রিপুরা পল্লীর সর্দার সুজন ত্রিপুরার দুই ছেলে জানাইয়া ত্রিপুরা ও কানাইয়া ত্রিপুরার হালকা সর্দি হয়। পরদিন তারা ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়। দুইদিন পর ৭ জুলাই স্থানীয় জোড় আমতল এলাকায় এক হোমিও চিকিৎসকের কাছে তাদের নেওয়া হয়। ওই চিকিৎসক সাধারণ জ্বর-সর্দি মনে করে কিছু ওষুধ দেন তাদের। ওই ওষুধ সেবনও করে তারা।

এরপর ৮ জুলাই ওই শিশুদের গায়ে গুটি ওঠে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। এরপর পেট ফাপায়। একদিন পর ওই দুই ছেলে মারা যায়। এক-এক করে ত্রিপুরা পল্লীর অধিকাংশ শিশু অজ্ঞাত এ রোগে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে ৯ জন শিশু মারা যায়। রোগে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয় ৯৮ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে ২১ জন শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭৩ জন রোগী।