ঘুষের টাকাসহ আটক নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী রিমান্ডে

৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার সময় নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী একেএম ফখরুল ইসলামকে হাতে নাতে ধরেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মতিঝিলে তার নিজ কার্যালয়ে দুদক অভিযান চালিয়ে আটক করে।
মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম রব্বানী জানান, দুদকের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করছে।
ঘুষ গ্রহণকালে গ্রেফতার হওয়া নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ফখরুল ইসলামকে দুইদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজ দপ্তরে ঘুষ গ্রহণকালে ফখরুল ইসলামকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে দুদক। পরে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বেঙ্গল মেরিন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২২টি জাহাজের নকশা অনুমোদনের জন্য নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে আবেদন করে। কিন্তু জাহাজের আকারভেদে প্রতি নকশা অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন সময়ে ৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন প্রকৌশলী এ কে এম ফখরুল ইসলাম। সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল এমভি নওফেল লিহান জাহাজের নকশা অনুমোদনের জন্য ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন ফখরুল ইসলাম।
বেঙ্গল মেরিন কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার ঘুষ দেয়া হবে বলে ফখরুল ইসলামকে জানায় এবং বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে অবহিত করে। পরে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে বিশেষ টিম সকাল থেকে ওই ভবনের চারদিকে অবস্থান নেয়। দুপুর ২টার দিকে ঘুষ গ্রহণকালে টাকাসহ হাতেনাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।