ডিইউ টিভির’ যাত্রা শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) টেলিভিশন স্টুডিওর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হলো ‘ডিইউ টিভি’ নামে এ টেলিভিশন স্টুডিও। সংবাদ, ডকুমেন্টারি, বিনোদনসহ নানা অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ স্টুডিওর অনুষ্ঠান দেখা যাবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেখা যাবে এ টেলিভিশন স্টুডিও।

৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আর্থিক সহযোগিতায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের উদ্যোগে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সাত তলায় এ স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফ্?ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এ টিভি স্টুডিও উদ্বোধন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন এবং টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়ার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারপারসন রিফফাত ফেরদৌস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিভি স্টুডিও প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবা রহমান।
অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি বড় ঘটনা। দিন দিন মিডিয়া শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে পরিণত হচ্ছে। সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি পরিবর্তন হচ্ছে মিডিয়া। এ টেলিভিশন স্টুডিওকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। মিডিয়া ভালো কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মাঝে মাঝে অনেক মিডিয়া অনেক খারাপ কাজেও ব্যবহার হয়। এটা অসত্যকে সত্য করে, আবার সত্যকে ধামাচাপা দেয়। সেক্ষেত্রে এ স্টুডিও গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান প্রকল্পের (হেকেপ) আওতায় এ টিভি স্টুডিও স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি সৃষ্টি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। টেলিভিশনকে অত্যন্ত শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির হাতে এ মাধ্যম পরিচালিত হলে সমাজ তথা মানব সভ্যতার উপকার হবে। এটি অদক্ষ ও ভুল লোকের হাতে পড়লে মানব সভ্যতার ক্ষতি হতে পারে। টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র মাধ্যমের অপব্যবহার রোধে গণমাধ্যমের সঠিক ব্যাকরণ শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম কর্মীদের সর্বদা সত্যনিষ্ঠ থাকতে হবে।
চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া বলেন, এ বিভাগ থেকে আমাদের শিক্ষার্থীরা টেলিভিশন সাংবাদিকতা ও অনুষ্ঠান নির্মাণসহ নানা কিছু শিখছে। এ স্টুডিওর মাধ্যমে পড়াশোনা অবস্থায় তাদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ জোরদার হলো। বিভিন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি এক নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। অনুষ্ঠান শেষে স্টুডিওতে পরীক্ষামূলকভাবে একটি টকশো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। এ স্টুডিওতে অত্যাধুনিক সব ব্যবস্থা রয়েছে। লাইটিং সিস্টেম, লাইটিং কন্ট্রোল রুম, মাস্টার কন্ট্রোল রুম, প্রোডাকশন কন্ট্রোল রুম, সেন্ট্রাল ইকুইপমেন্ট রুম, তিনটি এডিট প্যানেল ও মেকআপ রুম রয়েছে। কবে নাগাদ এ স্টুডিও থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে জানতে চাইলে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারপারসন রিফফাত ফেরদৌস আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, টেলিভিশন স্টুডিওর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো, পূর্ণাঙ্গভাবে অনুষ্ঠান প্রচার করতে আরও কিছুদিন লাগবে। দিনে কতক্ষণ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে তাও এখনও নির্ধারণ করা হয়নি বলে তিনি জানান।