মাধবপুর শিল্পায়নে বিপ্লব

সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুপাশে দেশের নামী-দামী অর্ধশতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। শিল্পের প্রধান উপাদান গ্যাস, বিদ্যুত, আধুনিক যোগাযোগ, শ্রম, কাঁচামাল, সহ শিল্প সহায়ক পরিবেশ থাকায় দেশের খ্যাতনামা শিল্পদ্যোক্তারা মাধবপুরকে বেছে নিয়েছেন। হবিগঞ্জের মাধবপুরে রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদুমুলে গড়ে উঠেছে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিককালে রাতারাতি মাধবপুরে এত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে আগে কেউ কল্পনা করেনি। শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় মাধবপুরের রাস্তার দুপাশের জমির দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। যে জমি আগে বিক্রি হতো নামমাত্র মূল্যে এখন এর দাম অনেক বেশি। আগে প্রতি শতক জমি বিক্রি হতো ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায়। এখন প্রতি শতক বিক্রি হচ্ছে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজারে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসকূপ এবং সরকারী-বেসরকারী কয়েকটি বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগ পেয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারী সিদ্ধান্তের কারণে এখনও গ্যাস সংযোগ পায়নি। তবে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিশেষ ব্যবস্থায় বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে কয়লা জ্বালানি দিয়ে কারখানা চালু রয়েছে। ১৯৮০ সালের দিকে মাধবপুরে প্রথম সায়হাম গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান শিল্প প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তনের সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে এ প্রতিষ্ঠানটি দেশে বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। মাধবপুরে শিল্প স্থাপনের কারণে গ্রাম ও চা বাগান এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। চা বাগান এলাকার শিক্ষিত বেকার হাজার হাজার প্রান্তিক শ্রমিকদের এসব শিল্প কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এখন প্রায় ৫০ হাজারের বেশি উঠতি বয়সের নারী-পুরুষ কাজ করছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় মফস্বল অঞ্চলে অবকাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। চাহিদা বেড়েছে আবাসনের। এখন গ্রাম এলাকার বাসা বাড়িতেও ভাড়াটিয়ারা থাকতে পারছে। এতে গ্রামের আর্থ-সামাজিক অবস্থা হচ্ছে শক্তিশালী। মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া, বুলা, জগদীশপুর, ছাতিয়াইন, নোয়াপাড়া, শাহজাহানপুর, বাঘাসুরায় যমুনা গ্রুপ, যমুনা স্পিনিং মিলস ইউনিট-২ ও যমুনা টায়ার নামে দুটি বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান এ উপজেলার বেজুড়া নামক স্থানে প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি পুরোদমে চালু হলে এতে প্রায় ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এছাড়া প্রাণ আরএফএল, আরএকে, স্কয়ার, স্টার সিরামিক্স, যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, ফাইন নাহিদ টেক্সটাইল, মার, কপারটেক, এজি সিরামিক্স, ট্রান্সক্রম, ফারইস্ট, বাদশা, সায়হাম, পাওনিয়ার, হার্ডল্যান্ড, চারসিরামিকসহ অর্ধশতাধিক কারখানা গড়ে উঠেছে। যমুনা গ্রুপের জিএম প্রকৌশলী আবুল হোসেন বলেন, এ এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠার ভাল পরিবেশ থাকায় ঢাকার আশপাশ ছেড়ে যমুনা গ্রুপ মোটা বিনিয়োগ করে দুটি আধুনিক শিল্প কারখানা স্থাপন করেছে। এতে প্রায় ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা জাকারিয়া চৌধুরী জানান, মাধবপুরে জমি, গ্যাস, বিদ্যুত সুবিধা থাকায় শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। সায়হাম গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাহজাহান বলেন মাধবপুরে ৮০ দশকে শিল্প শুরু হওয়ার পর এখন বড় আকারে শিল্পায়ন হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. মাহবুব আলী বলেন, বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব সরকার। তাই গ্রামাঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে শিল্পদ্যোক্তাদের শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়া হয়েছে। মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের ফলে দেশ দিন দিন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলছে।