ভিয়েতনাম থেকে আসা চাল খালাস শুরু

ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা প্রথম চালানের চাল খালাস শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে (লাইটার) করে প্রথমে খালাস করা হচ্ছে। এরপর বড় জাহাজের ড্রাফট (পানির নিচের অংশ) কমলে বন্দরের এনসিটি টার্মিনালে সব চাল খালাস করা হবে। আজ মঙ্গলবারের মধ্যে সব চাল খালাস হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে গতকাল সোমবারও দ্বিতীয় চালানে ২৭ হাজার টন চাল নিয়ে জাহাজ ‘এমভি ট্যাক্স’ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পেঁৗছেছে।

এ বিষয়ে

চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) মো. জাফর আলম সমকালকে বলেন, প্রথমে বন্দরের বহির্নোঙরে চাল খালাস শুরু হয়েছে। এরপর জোয়ারের সময় জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারে।

আড়াই লাখ টন চালের মধ্যে প্রথম দফায় ২০ হাজার টন চাল নিয়ে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছিল ‘এমভি ভিসাদ’ নামের বড় জাহাজটি। এরপর শিপিং এজেন্ট কর্তৃপক্ষ চালের নমুনা পরীক্ষা, কাস্টমস ছাড়পত্র সংগ্রহ, বন্দরের জেটিতে বার্থিং (জাহাজ ভেড়ানোর) অনুমতি নিলেও বহির্নোঙরে চাল খালাসের উপযোগী ছোট জাহাজ না পাওয়ায় দ্রুততম সময়ে খালাসের কাজ শুরু করা যায়নি।

বন্দর কর্তৃপক্ষ, শিপিং এজেন্ট ও খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত রোববার থেকে উত্তাল বহির্নোঙরে বড় জাহাজের পাশে ছোট জাহাজ ‘এমভি জুপিটার’ বেঁধে দেড় হাজার টন চাল খালাস করা হচ্ছে। যাতে বড় জাহাজটির ড্রাফট কমে বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে আনার উপযোগী ৮ দশমিক ৫ মিটারের নিচে নেমে আসে। এর পাশাপাশি আরও একটি লাইটার জাহাজ পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের জেটিতে সর্বোচ্চ সাড়ে নয় মিটার ড্রাফট ও ১৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভেড়ানো যায়। তবে এনসিটি ছাড়া অন্যসব জেটিতে ওই ড্রাফটের জাহাজ আনা যায় না। জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর পর সেখান থেকে ক্রেনের সাহায্যে চালগুলো ইয়ার্ডে অথবা সরাসরি ট্রাকে নামানো হবে। এরপর চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকার সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে মজুদ করা হবে সেই চাল।

‘এমভি ভিসাদ’র এজেন্ট ইউনি শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসাইন জানান, শনিবার তারা কাস্টমস ডিউটি জমা দিয়ে চাল খালাসের ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছেন। ওই দিনই লাইটার জাহাজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডবি্লউটিসি) কাছে তিন হাজার টন চাল লাইটারিংয়ের জন্য জাহাজ চাওয়া হয়। সে হিসেবে তারা সোমবার বিকেলে বড় জাহাজটি বন্দর জেটিতে আনার জন্য বার্থিং সিডিউল নিয়ে রাখেন। কিন্তু ডবি্লউটিসি দেড় হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি লাইটার জাহাজ দিলেও তা ক্লিংকারবাহী হওয়ায় চাল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। এরপর ‘জুপিটার’ নামের লাইটারটি দেওয়া হয়েছে।

ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের প্রধান নির্বাহী মাহবুব রশীদ বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের চাল খালাসের জন্য একটি জাহাজ কোম্পানিকে দুটি লাইটার জাহাজ সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। একটি লাইটারে চাল লোড করা হলে অন্যটি পাঠানো হবে। এরপর জাহাজটি পরে বন্দরের জেটিতে এনে সব চাল খালাস করা হবে।

ভিয়েতনাম থেকে ২৭ হাজার টন চাল নিয়ে এমভি ট্যাক্স নামের আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসেছে। ১৯ জুলাই আসার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দু’দিন আগে বন্দরের বহির্নোঙরে প্রবেশ করে জাহাজটি।