কমলাপুর থেকে টঙ্গী চার লাইনের রেলপথ

একই সঙ্গে ট্রেন ছাড়ার ও প্রবেশের সুযোগ কোথাও কোনো ক্রসিংয়ের প্রয়োজন হবে না রেল লাইনের দুই পাশে উঁচু সীমানা দেয়াল অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করে ৫টি ফুট ওভার ব্রিজ
ফয়সাল খান
রাজধানীর কমলাপুর থেকে গাজীপুরের টঙ্গী পর্যন্ত রেলপথ শিগগিরই চার লাইনে উন্নীত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কেউ যাতে হুট করে রেল লাইনে ঢুকে পড়ে কোনো দুর্ঘটনার শিকার না হয় এবং রেলের সম্পত্তি যাতে সুরক্ষিত থাকে এ জন্য এর দুই পাশে উঁচু সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। এ পথের বিভিন্ন স্থানে যেসব অবৈধ রেলক্রসিং আছে, তা বন্ধ করে দেবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেল লাইন এলাকায় কার্যকর ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হবে।
জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত কোনো ক্রসিংয়ের দরকার হবে না। চারটির মধ্যে দুটি লাইন দিয়ে শুধু কমিউটার ট্রেন চলাচল করবে। এতে কমলাপুর থেকে ক্যান্টনমেন্ট, এয়ারপোর্ট, উত্তরা, টঙ্গী ও জয়দেবপুরে সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা। ফলে ঢাকা শহরের অসহনীয় যানজটে দ্রুত চলাচল করতে মানুষ ট্রেনকে বেছে নিবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকায় যানজটের কারণে মানুষের যে লাখ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে তা কমে আসবে। রেলের সম্পত্তি সংরক্ষণ হবে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ হবে। বর্তমানে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে একটা ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার সময় অন্য কোনো ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ করতে পারে না। ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার সময় কোনো ট্রেন আসলে দীর্ঘক্ষণ স্টেশনের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে একই সময়ে ট্রেন ছেড়ে যেতে ও স্টেশনে প্রবেশ করতে পারবে। ফলে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।
রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের শুষ্ক মৌসুমে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। যা দুই বছরের মধ্যে শেষ করতে চায় কর্তৃপক্ষ। এর জন্য চলতি মাসের শেষ নাগাদ দরপত্র আহ্বান করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে থাকা দুই লাইনের রেলপথের সঙ্গে আরও দুটি লাইন যুক্ত করা হবে। আর দুই পাশে থাকবে সীমানা দেয়াল। নির্মাণ করা হবে ৫টি ফুট ওভার ব্রিজ। কমলাপুর থেকে মগবাজার পর্যন্ত ৩টি আর নাখালপাড়া ও কুড়িলে ১টি করে ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। যাতে পথচারীরা সার্বক্ষণিক রাস্তা পারাপার করতে পারে।
এর আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবৈধ দখলে থাকা রেলের সব সম্পত্তি উদ্ধার করা হবে। আইন অনুযায়ী রেল লাইনে ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেল লাইনে কেউ ঢুকতে বা হাঁটতে পারবে না। কাউকে পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করা হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত রেল লাইনে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। আর রেল লাইনের উপর দিয়ে যত্রতত্র পারাপার ও উন্মুক্ত অবস্থায় চলাচল করেছেন অসংখ্য মানুষ। আইনে রেল লাইনে সার্বক্ষণিক ১৪৪ ধারা থাকার কথা বলা হলেও এর কোনো কার্যকারিতা নেই। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আর যাত্রীদের অভিযোগ, পুরো পথ ভালোভাবে আসলেও টঙ্গীর পরেই শুরু হয় ক্রসিং নামক যন্ত্রণা। বিভিন্ন সময় জয়দেবপুর, হায়দারাবাদ, টঙ্গি, উত্তরা, বিমানবন্দর, তেজগাঁও, খিলগাঁওসহ স্টেশন ও স্টেশনের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। বিশেষ করে এমন ভোগান্তির শিকার হন লোকাল, কমিউটার ও মেইল ট্রেনের যাত্রীরা। ফলে কম দূরত্বে ভ্রমণের জন্য ট্রেনের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমছে।
তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ট্রেনের গতি কয়েকগুণ বাড়ার পাশাপাশি মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এতে রেলপথের উপর মানুষের আস্থা আরও বড়বে। লোকাল যাতায়াতের জন্য যাত্রীরা রেলপথকেই বেছে নিবেন বলে মনে করছেন তারা।