এক বছরে ইলিশের উৎপাদন তিনগুণ

পটুয়াখালী জেলার সাগরপারের গলাচিপা উপজেলার চার নদ-নদীতে ইলিশের উৎপাদন ও আহরণের পরিমাণ ক্রমে বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন ও আহরণ বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। ইলিশের উৎপাদন ও আহরণ বাড়ায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন খাতে। বিশেষ করে ইলিশ সেক্টরে কর্মসংস্থান, আমিষের ঘাটতি পূরণ ও অর্থপ্রবাহ বেড়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, জাটকা ধরা বন্ধ ও মা ইলিশ রক্ষাসহ সরকারী-বেসরকারী নানাবিধ উদ্যোগ-আয়োজন সফলভাবে বাস্তবায়ন করার কারণেই ইলিশের উৎপাদন ধারণার চেয়েও বেশি পরিমাণে বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, চলতি বর্ষায় ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করবে। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণে বিস্তীর্ণ সাগর ছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় নদ-নদী। সব নদ-নদীতে কমবেশি ইলিশ ধরা পড়ে। তবে এরমধ্যে সাগর মোহনার ১৫ হাজার হেক্টর আয়তনের প্রধান চারটি আগুনমুখা, রামনাবাদ, বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বেড়ে চলছে। উপজেলা মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ চারটি নদ-নদীতে ইলিশ উৎপাদন ও আহরণ হয়েছিল ১ হাজার ২৬০ মেট্রিকটন। পরবর্তী অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ১২৫ মেট্রিকটনে। আর চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের এগারো মাসে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১৩ মেট্রিকটন। যার আর্থিক মূল্য প্রায় শতকোটি টাকা। চলতি জুন মাসে আরও অন্তত চার-পাঁচ শ’ মেট্রিকটন উৎপাদন হবে বলে আশা করা হয়েছে। এছাড়া, আগামী অর্থবছরে উৎপাদন অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করবে বলেও কর্তৃপক্ষ আশা করছেন। রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ উৎপাদন ও আহরণের কারণে উপজেলায় ইলিশ নির্ভর জেলেগোষ্ঠীর জীবনমানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। যুগ যুগ ধরে দাদনের ফাঁদ থেকে অসংখ্য জেলে এরই মধ্যে বেরিয়ে এসেছেন এবং মুক্ত অর্থনৈতিক জীবনযাপন করছেন। প্রতিবছর বাড়ছে ইলিশনির্ভর জেলের সংখ্যা। গত বছর উপজেলায় ইলিশনির্ভর প্রত্যক্ষ জেলের সংখ্যা ছিল ১০ হাজারের নিচে। যা চলতি বছর পৌঁছেছে ১১ হাজার ৩১ জনে। ইলিশনির্ভর পরোক্ষ মানুষের সংখ্যাও গত কয়েক বছরে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এভাবে নতুন কর্মসংস্থানে ইলিশ খাতটি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। অভ্যন্তরীণ এ চার নদ-নদী ছাড়া সাগরেও গত কয়েক বছরে ইলিশের উৎপাদন আশাতীতভাবে বেড়েছে।