১২ বিশেষ তহবিলে বরাদ্দ ৪ হাজার কোটি টাকা

আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ১২টি বিশেষ তহবিলে ৩ হাজার ৯৩৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব অর্থে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, সমাজকল্যাণ ও জনমুখী কাজ করা হবে। এই তহবিলের কাজ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অধীনে পরিচালিত হবে। এসব তহবিল থেকে যাতে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ করা যায় সে জন্য এগুলো ব্যবহারের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর হাতে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজেটে যেসব অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেগুলো খরচ করতে নানা জটিলতা দেখা দেয়। এতে অর্থ ছাড় দেরি হয়। এদিক থেকে বিশেষ তহবিলে যেসব অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেগুলো খরচ করার ক্ষেত্রে তেমন ঝামেলা থাকে না। সংশ্লিষ্ট সংস্থাই এসব অর্থ খরচ করে মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারে। এতে কাজের গতি আসে।
এ বিষয়ে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বিশেষ শ্রেণি-পেশার উন্নয়নের জন্য আমরা বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়েছি। এর মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনে ৪২ শতাংশ এবং নারী-পুরুষের বৈষম্য নিরসনে ২৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বিজ্ঞানভিত্তিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে উৎসাহ দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিজ্ঞানী, প্রযুক্তি ও গবেষকদের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের মাধ্যমে ফেলোশিপ প্রদান অব্যাহত রাখা হবে। একই সঙ্গে নতুন অর্থবছরে গবেষণা খাতে ২০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কৃষি গবেষণায় গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল গঠন করেছিল। ওই তহবিলটি এখনো চলমান আছে। এই তহবিলে এবার নতুন করে আরও ৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সমাজের অন্যতম একটি অনগ্রসর শ্রেণি হচ্ছে হিজড়া জনগোষ্ঠী। তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের উপযোগী করা হবে। এই জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে তাদের জন্য এই প্রথমবারের মতো বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সমাজকল্যাণ অধিদফতরের মাধ্যমে এই অর্থ খরচ করা হবে।
সমাজের আরও একটি অবহেলিত অংশ হচ্ছে বেদে সম্প্রদায়। তাদেরসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য এবারের বাজেটে এই প্রথমবারের মতো বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর পরিমাণ ২৭ কোটি টাকা।
দেশে বিভিন্ন ধরনের ভয়ানক ও চিকিৎসা ব্যয়বহুল রোগব্যাধি বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক, প্যারালাইজড ও জš§গত হৃদরোগ। বিশেষ করে সমাজের দরিদ্র শ্রেণি এসব রোগে আক্রান্ত হলে তাদের চিকিৎসা করানোর মতো সক্ষমতা থাকে না। এ কারণে এসব রোগে আক্রান্ত দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা দিতে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই তহবিলে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
চা শ্রমিকরা বরাবরই অবহেলিত। তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার একটি বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই খাতে এবার ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই অর্থে তাদের খাদ্য-দ্রব্যাদির পরিবর্তে জনপ্রতি এককালীন নগদ ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে সরকার নানামুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এসব কার্যক্রমের বিপরীতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি।
হাওর এলাকায় বছরজুড়ে কাজের সুযোগ থাকে না। বলতে গেলে ৪ মাস কাজ থাকে, বাকি সময় কোনো কর্মসংস্থান থাকে না। এ ছাড়া এবারের আকস্মিক বন্যায় হাওরে ফসল ও মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে এবার হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ৩৭১ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য সহায়তায় ৫৭ কোটি, কৃষি সহায়তায় ৮২ কোটি ৭ লাখ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ২৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব কর্মসূচির ফলে হাওর অঞ্চলে টাকার প্রবাহ বাড়বে, কর্মসংসস্থান হবে।
এ ছাড়া ইজিপিপির আওতায় ৯১ হাজার ৪৪৭ জন উপকারভোগীকে ৮২ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ব্যাংকগুলোকে মূলধনের জোগান দেওয়ার জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরেও এই খাতে ওই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। দুর্নীতি ও জালিয়াতির কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোতে সৃষ্ট মূলধন ঘাটতি মেটাতে জনগণের করের টাকা থেকে এই অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সমাজের অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান ও কাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়ন করবে পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
চরাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য গঠিত তহবিলে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই তহবিলটি গত কয়েক বছর ধরে চলছে।
এ ছাড়া জলবায়ুর দূষণ মোকাবিলার তহবিলে এবার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।