কঞ্চি কলম থেকে বাঁশ উৎপাদন

নওগাঁর ধামইরহাটে সরকারি পতিত ও পরিত্যক্ত জমিতে কঞ্চি কলম থেকে বাঁশ উৎপাদন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বনবিট অফিস। এ প্রযুক্তির ধারণা ব্যাপকভাবে বিস্তার ঘটিয়েছেন ধামইরহাট বনবিট কর্তকর্তা লক্ষ্মণ চন্দ্র ভৌমিক।

জানা গেছে, উপজেলার দেড় শতাধিক হেক্টর জমিতে কঞ্চি কলম রোপণ করা হয়। রোপিত এ কঞ্চি তিন-চার বছরের মধ্যে বংশ বৃদ্ধি করে পূর্ণাঙ্গ বাঁশে পরিণত হয়। আর এভাবে বাড়তে বাড়তে এটি একসময় বিশাল বাঁশবাগানে পরিণত হয়। বনবিট অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আগ্রাদ্বিগুণ, মইশড়, রূপনারায়ণপুর, ছিলিমপুর, পশ্চিম চাঁদপুর, চকশিমুলতলী, জোতরাম, বৈদ্যবাটি, ধুরইল, দাদনপুর, উত্তর চকরহমত, চকযদু, বেলঘরিয়াসহ বিভিন্ন মৌজায় এসব কঞ্চি কলম রোপণ করা হয়। সামাজিক বনায়নবিধির আওতায় স্থানীয় এলাকাবাসীদের উপকারভোগী সদস্য করে দেখাশোনা ও পরিচর্যার ভার বনবিট অফিস থেকে দেওয়া হয়। পরিচর্যাসহ বাঁশবাগানের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত এসব এলাকা পরিদর্শন ও উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বনবিট কর্মকর্তা লক্ষ্মণ চন্দ্র ভৌমিক। জাহানপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওসমান আলী বলেন, লক্ষ্মণ চন্দ্র ভৌমিক আইনি প্রক্রিয়ায় শক্ত অবস্থানে থাকার ফলে উপজেলায় বনের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে এবং গাছখেকোরা দমে গেছে। ধামইরহাট ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, ব্যাপক বনায়ন ও শক্ত হাতে রক্ষণাবেক্ষণের ফলে বনবিট কর্মকর্তা লক্ষ্মণ চন্দ্র ভৌমিক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাঁচবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছেন। উপকারভোগী মইশড় গ্রামের নিরঞ্জন মালী তৃপ্তির সঙ্গে বলেন, ‘ব্যতিক্রমী এই বাঁশবাগান আমাদের যেমন মুগ্ধ করেছে তেমনি ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছি। ’ চকযদু গ্রামের উপকারভোগী বিলকিস বানু বলেন, ‘বাঁশবাগান আমাদের সৌভাগ্যবান করেছে। ’ ধামইরহাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এ টি এম বদিউল আলম বলেন, ‘লক্ষ্মণ চন্দ্র ভৌমিকের মতো দক্ষ ও চৌকস বন কর্মকর্তা দেশে আরও কয়েক ডজন প্রয়োজন। ’ পাইকবান্ধা রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘লক্ষ্মণ চন্দ্র ভৌমিকের মতো একজন দক্ষ কর্মকর্তা আমাদের বন বিভাগের গর্ব। সরকারিভাবে রোপিত বাঁশবাগান দেখে সাধারণ কৃষকও কঞ্চি কলম রোপণ করে বাঁশবাগান করেছে। এতে এলাকার চাহিদা পূরণ করে বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরাও বাঁশ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ’