চরের বাদামে সচ্ছলতা

চৈত্রের আগাম বন্যায় হাওরে বোরো ফসল মার খেলেও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও আড়িয়ালখাঁর চরাঞ্চলে এবার চিনা বাদামেরও বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো উৎপাদন, সেই সঙ্গে ভালো দর পাওয়ায় বাদাম চাষিরা বেজায় খুশি। চাষিরা জানান, গত বছর ফলন ও বাজারদর দুটোই ভালো হওয়ায় এ বছর তারা অধিক পরিমাণ জমিতে বাদাম চাষ করেন। ইতিমধ্যে চরের কৃষকরা ৯০ ভাগ বাদাম ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমের পর ব্রহ্মপুত্র ও আড়িয়ালখাঁ নদীর পানি নেমে যায়। তখন নদ-নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে চিনা বাদামের চাষ করেন কৃষক। পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর ও কটিয়াদীর বিস্তীর্ণ জনপদগুলোতে গত কয়েক বছর ধরে বাদাম চাষ করে চরের মানুষ সচ্ছল জীবন-যাপন করছেন। স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেকেই। বাদাম বিক্রির টাকায় চরের অধিকাংশ চাষি সারা বছরের খোরাক জোগান। হোসেনপুরের চর পিতলগঞ্জ গ্রামের বাদাম চাষি মো. রহমত আলী জানান, বাদাম চাষে লাভ বেশি। বাদাম ফলাতে সার, তেল, বিষ (কীটনাশক) লাগে না। বীজের দাম আর পরিশ্রম বাদ দিলে সবটাই লাভ। তিনি জানান, এবার চরের চার কাঠা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। দুই কেজি বীজের দাম ও অন্যান্য খরচ মিলে তার ২০০০ টাকা খরচ হয়েছে। বাদাম পেয়েছেন সাড়ে সাত মণ। ১৫০০ টাকা হিসেবে দাম আসে ১১ হাজার ২৫০ টাকা। তার নিট লাভ ৯ হাজার ২৫০ টাকা। এ জমিতে তিনি আবার আমন ধান ও মরিচ চাষ করবেন। পাকুন্দিয়ার মঠখলা গ্রামের বাদাম চাষি বিলাল হোসেন জানান, পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর ও স্থানীয় পিতলগঞ্জ বাজার থেকেই পাইকাররা তাদের বাদাম কিনে নিয়ে যান। ফলে তাদের কোনো পরিবহন ব্যয় নেই। কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর চরাঞ্চলের প্রায় চার হাজার কৃষক সামান্য জমি নিয়ে বাদাম চাষ করে তাদের সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন।