ঈর্ষণীয় সাফল্য ॥ মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় নানা কার্যক্রম

মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় ঈর্ষণীয় সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের আমলে গৃহীত উদ্যোগসমূহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হয়েছে প্রশংসিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে বেড়েছে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্র। হ্রাস পেয়েছে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার। তবে বিদ্যমান সফলতা ধরে রাখতে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য বাল্যবিবাহ এখনও বড় হুমকি হয়ে আছে। ৫৮ শতাংশ গর্ভবতীর ডেলিভারি অপ্রশিক্ষিত ধাত্রী বা আত্মীয়-স্বজনের হাতে হয়ে থাকে। শিশুমৃত্যু প্রতিরোধের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে নবজাতকের মৃত্যু। জাতীয় অর্জন ভাল হলেও শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এখনও পিছিয়ে আছে। ধনী ও গরিব পরিবারের শিশুদের মধ্যে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আছে বৈষম্য। মা ও শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ বাড়িতে অপ্রশিক্ষিত ধাত্রী বা আত্মীয়স্বজনের দ্বারা প্রসব করানো। মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার সফলতা ধরে রাখতে হলে সরকারী ও বেসরকারীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ জোরালো করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেজ্ঞরা।

নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে বাংলাদেশ। সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে দেশব্যাপী পরিচালিত হচ্ছে নানা কার্যক্রম। বাংলাদেশে জননীতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস) -২০১৪ তে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ৬৫ শতাংশ কমেছে। অল্প বয়সে বিয়ে ও সন্তানধারণকারী কিশোরীর সংখ্যা কিছুতেই কমিয়ে আনা যাচ্ছে না। এতে কিশোরী বয়সে যারা মা হচ্ছে, তাদের মধ্যে মাতৃমৃত্যু হার জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। আর শিশুমৃত্যুর হার জাতীয় গড়ের প্রায় শতকরা ত্রিশ ভাগ বেশি। বিশ্বের যেসব দেশে কিশোরীদের মধ্যে গর্ভধারণের হার বেশি, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। এদেশের নারীদের প্রায় অর্ধেকের বয়স বিয়ের সময়ে ১৮ বছরের কম থাকে। আর শতকরা ৫৮ ভাগ ২০ বছর বয়সের আগেই প্রথম সন্তানের জন্ম দেয়। এ বয়সের জন্য যথাযথ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য তথ্য ও সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ অপর্যাপ্ত। দেশে প্রতি হাজার শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে ২ দশমিক ৯ জন মা মারা যান। তাদের মধ্যে কিশোরী বয়সে হওয়া মায়ের সংখ্যাই বেশি। অপূর্ণ চাহিদার ক্ষেত্রে একটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের মধ্যেই অপূর্ণ চাহিদার হার সবচেয়ে বেশি। এ হার ১৯.৮ শতাংশ। এ বয়সীদের মধ্যে মাত্র ৩৭.৬ শতাংশ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের ৬৬ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে হয়। আর বিবাহিতদের মধ্যে কিশোরী অবস্থাতেই গর্ভধারণ করেন শতকরা ৬৪ দশমিক ৩ ভাগ। এই হিসেবে দেশের এক কোটি ৬০ লাখ কিশোরী প্রতিবছর সন্তান জন্ম দেয়। শহরের তুলনায় গ্রামে কিশোরী অবস্থায় মা হওয়ার প্রবণতা বেশি। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী ১ কোটি ৬০ লাখ কিশোরী প্রতিবছর সন্তান জন্ম দেয়, যাদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনেরই ইতোমধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের জনসংখ্যার শতকরা ২৩ ভাগই ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরী। যাদের মধ্যে আবার ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয় ৬৬ শতাংশের। এসব কিশোরীর আবার এক-তৃতীয়াংশ এবং ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সে তিন-চতুর্থাংশ কিশোরী সন্তান ধারণ করে। স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতি গ্রহণের হারও তুলনামূলকভাবে অনেক কম। শতকরা ৫ দশমিক ৭ ভাগ স্থায়ী এবং ৮ দশমিক ৬ ভাগ দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতি গ্রহণ করছেন। নারীদের তুলনায় পুরুষদের পদ্ধতি গ্রহণের হার এখনও অনেক কম। শতকরা ৫ দশমিক ২ ভাগ পুরুষ স্থায়ী এবং অস্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করছেন।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর জানায়, সুস্থ শিশু ও সুস্থ মা সবার কাক্সিক্ষত বিষয়। এজন্যই নিরাপদ মাতৃত্ব ১০০ ভাগে উন্নীত করতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর পরিকল্পিত পরিবার গঠনের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, বয়োসন্ধিকালীন, প্রজনন স্বাস্থ্য, নিরাপদ মাতৃত্ব, জেন্ডার বিষয়ক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে বিগত ছয় দশক ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সব সক্ষম দম্পতিদের যদি পরিবার পরিকল্পনা, মা-শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির সহজ সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তবে কর্মসূচীতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ অনেকাংশেই উত্তরণ করা সম্ভব। গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের হার ২০১১ সালের তুলনায় ৪৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৮ শতাংশ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানিক ও দক্ষ সেবাদানকর্মী দ্বারা প্রসবের হার বেড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ হয়েছে। শিশু মৃত্যু হ্রাসেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। প্রতি ১ হাজার জীবিত জন্মে নবজাতকের মৃত্যুর হার ৩২ থেকে ২৮, এক বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার ৪৩ থেকে ৩৮ এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার ৫৩ থেকে ৪৬ এ হ্রাস পেয়েছে। অপূর্ণ চাহিদা হ্রাস পেয়ে ১৪ থেকে ১২ তে এসেছে। আর ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মায়েদের ক্ষেত্রে সন্তান গ্রহণ প্রবণতা অর্থাৎ কিশোরী বয়সে মাতৃত্বও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এসব পরিমাপকে ধনাত্মক পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হলো সময়ের সঙ্গে মা ও শিশু স্বাস্থ্যে নতুন নতুন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বর্তমান সরকার সব সময়ই আন্তরিক। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারী উদ্যোগে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ১৩ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিকেও প্রাথমিক পর্যায়ের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য অধিদফতর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর দেশজুড়ে তৈরি করেছে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের নেটওয়ার্ক। আর নতুন করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অনেক মিডওয়াইফ। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রশিক্ষণ চলছে। মিডওয়াইফরা নারীদের গর্ভকালীন, প্রসবকালীন এবং প্রসব-পরবর্তী প্রসূতি মায়েদের প্রয়োজনীয় সেবা, পরিচর্যা ও পরামর্শ দেয়ার জন্য যথাযথভাবে দায়িত্ববান ও জবাবদিহির মধ্যে থাকবেন। সন্তান প্রসব করানো মিডওয়াইফদের দায়িত্ব এবং তিনিই নবজাতক ও শিশুর পরিচর্যা করে থাকেন। স্বাভাবিকভাবে শিশু প্রসবের জন্য মিডওয়াইফরা কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেন এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্যের জটিলতা নিরূপণ করেন এবং জরুরী ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করে থাকেন। একজন মিডওয়াইফ জানেন অন্তঃসত্ত্বা মা ও নবজাতকের অবস্থার অবনতি হলে কীভাবে তা শনাক্ত করবেন এবং অস্ত্রোপচার ছাড়াই সমস্যার সমাধান করবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তিনি জানেন যে কখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে মা ও নবজাতককে পাঠাতে হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতিসংঘের মহাসচিবের ‘প্রত্যেক নারী প্রত্যেক শিশু’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে মিডওয়াইফারির ওপর প্রশিক্ষণ কোর্স চালু এবং তিন হাজার নতুন মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দক্ষ মিডওয়াইফের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন। ইউএনএফপিএ মিডওয়াইফদের জন্য দুটি শিক্ষা কর্মসূচী পরিচালনায় সরকারকে সহায়তা করছে। প্রথমটি হচ্ছে, বর্তমানে যারা মিডওয়াইফ ও নার্স হিসেবে কাজ করছেন, তাদের জন্য মিডওয়াইফারির ওপর ছয় মাসের একটি সার্টিফিকেট কোর্স। ২০১০ সালে একটি অন্তর্বর্তী কর্মসূচী হিসেবে এটি চালু করা হয়। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, মিডওয়াইফারির ওপর তিন বছরের ডিপ্লোমা কোর্স। বাংলাদেশে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে এই কোর্স চালু হয়। ৩১ নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজ থেকে ২০২৫ শিক্ষার্থী (তিনটি ব্যাচে তিন বছরে) এ কোর্স সম্পন্ন করছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, মোবাইলে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রদানেও বিশ্বের নজর কেড়েছে বাংলাদেশ। হাসপাতাল কিংবা ডাক্তারের চেম্বার নয় মোবাইলেই মিলছে এই স্বাস্থ্যসেবা। বাড়িতে বসে মোবাইল ফোনে ভয়েস কল ও এসএমএসের মাধ্যমে এই স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে ‘আপনজন’ প্রকল্প। সরকারী-বেসরকারী যৌথ উদ্যোগে ‘আপনজন’ শিরোনামের এই স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। আপনজন কর্মসূচীর আওতায় গর্ভবতী, প্রসূতি মা ও তাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও স্বাস্থ্য তথ্য দিয়ে সহায়তা করা হয়। গর্ভাবস্থা বা বাচ্চার সঠিক বয়স অনুযায়ী গ্রাম বা শহরবাসীর বোধগম্য প্রয়োজনীয় তথ্য ফোন কল বা খুদেবার্তার মাধ্যমে আপনজন গ্রাহকরা পেয়ে থাকে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ নিয়েছেন ১৪ লাখের বেশি মা। প্রতিদিন ১৮ হাজার এসএমএস এবং ২৭ হাজার ভয়েস কলের মাধ্যমে এই স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আপনজনের সেবা পেতে হলে যে কোন মোবাইল ফোন থেকে ‘১৬২২৭’ নম্বরে ফোন করে ১ চেপে নিবন্ধন করতে হয়। আর ২ বাটন চেপে ডাক্তারের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলতে পারেন। সপ্তাহে দু’দিন মা এবং একদিন পরিবারের সদস্যরা এ স্বাস্থ্য পরামর্শ সেবা পাবেন। প্রতিটি পরামর্শের জন্য ২ টাকা চার্জ হলেও দরিদ্ররা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই সেবা পান।

পপুলেশন কাউন্সিলের এক জরিপে বলা হয়েছে, প্রতিবছর ৩০ লাখ শিশু জন্মায়। তার মধ্যে জেলায় ৬০ হাজার, উপজেলায় ৪ হাজার ও ইউনিয়নে ৬০০ জন করে। মাতৃ মৃত্যুহার কমাতে হলে নারী শিক্ষার হার আরও বাড়াতে হবে। বাল্যবিয়ে বন্ধ হলেই বছরে ১০ লাখ জন্ম কমবে। ১৯৯০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে ৪৫ শতাংশ।

সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম

হওয়ার হার বেড়েছে

দেশে স্বাভাবিক প্রসবের তুলনায় সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সিজারিয়ান পদ্ধতিতে যে সংখ্যক নবজাতক জন্ম হচ্ছে এর ৩৫ শতাংশই অপ্রয়োজনীয়। প্রতি এক শ’ নবজাতকের মধ্যে ২৩ জনেরই জন্ম হচ্ছে সিজারের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ অস্ত্রোপচার হচ্ছে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে। অথচ সিজারিয়ান পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম হওয়ার পর মা ও সন্তান দু’জনই যে দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে- সেই বিষয়টি জানানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাত্র ৪২ শতাংশ প্রসব প্রশিক্ষিত

সেবিকার হাতে হয়ে থাকে

বাংলাদেশ ডেমোগ্রফিক এ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০১৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩১ লাখ শিশু জন্ম দিতে গিয়ে ৫ হাজার ২৭০ জন মায়ের মৃত্যু হয়। অর্থাৎ ৬০০ শিশু জন্ম দিতে গিয়ে ১ জন মা মারা যান। মাত্র ৪২ শতাংশ প্রসব প্রশিক্ষিত সেবিকার হাতে হয়ে থাকে। বাকি ৫৮ শতাংশ গর্ভবতীর ডেলিভারি অপ্রশিক্ষিত ধাত্রী বা আত্মীয়-স্বজনের হাতে হয়ে থাকে। এর মধ্যে আবার ৬৩ শতাংশ গর্ভবতীর প্রসব বাড়িতে হয়ে থাকে। আর মাত্র ৩৭ শতাংশ গর্ভবতীর ক্লিনিক বা হাসপাতালে প্রসব হয়ে থাকে। মা ও শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ বাড়িতে অপ্রশিক্ষিত ধাত্রী বা আত্মীয়স্বজনের দ্বারা প্রসব করানো।

বাংলাদেশের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, কিশোর-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, নিরাপদ মাতৃত্বÑ এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে বিগত ছয় দশক ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় রূপকল্প ২০২১ পূরণের লক্ষ্যে অধিদফতর থেকে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দেশের সকল সক্ষম দম্পতিদের যদি পরিবার পরিকল্পনা, মা-শিশু-কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির সহজ সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তবে কর্মসূচীতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ অনেকাংশেই উত্তরণ করা সম্ভব। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের আইইএম ইউনিট ইউএনএফপিএ’র আর্থিক সহায়তায় প্রতিবছর দু’বার দেশব্যাপী সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উদযাপন করে থাকে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতি সারাবিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে। মহিলা প্রতি গড় সন্তান সংখ্যা, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার বর্তমান সরকারের শাসনামলে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তাই, শুধু সংখ্যাগত অর্জনের উপর গুরুত্ব না দিয়ে এখন গুণগত ও মানসম্মত সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়ার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে।