হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন ভারতের হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংহ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের ফলেই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি হচ্ছে। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার দিল্লীর বাংলাদেশের হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেশটির জাতীয় সংসদের স্পীকারের সঙ্গে আঙ্কারায় এক বৈঠক করেছেন।

এতে বলা হয়, দিল্লীতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর সঙ্গে হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিংহের সঙ্গে সিমলায় এক বৈঠক হয়। মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন বীরভদ্র সিংহ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের ফলেই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি হচ্ছে।

বৈঠককালে সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী মুখ্যমন্ত্রীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীর একটি হিন্দি সংস্করণ উপহার দেন। অসমাপ্ত আত্মজীবনী উপহার পাওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন অসামান্য নেতা ছিলেন। বৈঠককালে হিমাচল প্রদেশের ভারপ্রাপ্ত মুখ্যসচিব তরুণ শ্রীধর, প্রধান উপদেষ্টা টি জি নেগি ও বিশেষ সচিব অশ্বিনী শর্মা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আল্লামা সিদ্দীকী তুর্কী জাতীয় সংসদ স্পীকার ইসমাইল কাহরামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন। আঙ্কারায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাক্ষাতকালে স্পীকার তুরস্কের স্বাধীনতার যুদ্ধে (১৯১৯-২২) বাংলাদেশের জনগণের সহায়তা ও সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, দু’দেশের এ সম্পর্কের ভিত্তি ঐতিহাসিকভাবেই সুগভীর এবং এ সম্পর্ক বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এছাড়াও দুই দেশ তাদের প্রতিশ্রুত অঙ্গীকার অনুযায়ী বিরাজমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। বিদ্যমান বাণিজ্য এক দশমিক দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে পাঁচ বিলিয়নে উন্নীত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যের শুরুতেই উল্লেখ করেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যত লক্ষ্য। সে লক্ষ্য অনুযায়ী বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে ও ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি নিকট অতীতে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং অর্জনের প্রবাহমান চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্ককে তুরস্কের জনগণ যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে, তেমনি বাংলাদেশের জনগণও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে থাকে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং আত্মোৎসর্গের স্মৃতি বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে পবিত্রতম এক অম্লান অধ্যায়।

এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ফরেন অফিস কনসালটেশন এবং জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশনের বৈঠকের বিষয়ে স্পীকারকে অবহিত করেন। সভা দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক, ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে মর্মে আশা প্রকাশ করেন।

নিকট ভবিষ্যতে দু’দেশের মধ্যে উচ্চতর পর্যায়ের সফর বিনিময়ের আশাবাদের মধ্যে দিয়ে বৈঠক শেষ হয়। রাষ্ট্রদূত তুর্কি পার্লামেন্টের স্পীকারকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বাংলাদেশের ওপর দূতাবাস কর্তৃক তুর্কি ভাষায় প্রকাশিত বই এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প নক্সিকাঁথা উপহার দেন।