দক্ষিণ এশিয়ার সেরা উদ্যোক্তা জুবায়ের

ডিপ্রজন্ম : আপনার সাফল্যের পারদটা বর্তমানে আকাশছোঁয়া, কিভাবে এতদূর এলেন?

জুবায়ের : আমাদের ফোকাস সবসময় কাজের জিনিস তৈরি করা। ভালবাসা থেকে কাজ করেছি তাই মানুষ আমাদের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে পথচলা আর সবার ভালবাসায় সাফল্য এসেছে। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে পড়াকালে ক্লাস পালিয়ে সাইবার ক্যাফেতে যেতাম প্রোগ্রামিং শিখতে, স্বপ্ন ছিল হ্যাকার হব। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে থাকাকালে মানুষকে আইনী সুবিধা দিতে তৈরি করি ‘ল সাপোর্ট’ নামে মোবাইল এ্যাপ যেটি ঢাকা ইউনিভার্সিটি আয়োজিত দেশের সব থেকে বড় আইটি ফেস্টে চ্যাম্পিয়ন হয়।

সেই থেকে পথচলা… শেয়ার মার্কেট নিয়ে তৈরি করেছি ‘উঝঊ অখঅজগ’, সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া জালিয়াতি ঠেকাতে ‘ঈঘএ গঊঞঊজ’, ভ্যাট ফাঁকি রোধে ‘ঠঅঞ ঈঐঊঈকঊজ’। এভাবেই এগিয়ে যাওয়া, আর সবশেষ বিশ্বের মানুষকে তাক লাগিয়ে দিতে তৈরি করেছি ‘টপটিউব’ যেটি দুই মাসে ৮০ হাজার ব্যবহারকারী ছাড়িয়েছে সারা বিশ্বে।

আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেছি প্রতিটি কাজ যেন পূর্বের কাজগুলো ছাপিয়ে যায় আর এভাবেই এগিয়ে চলা।

ডিপ্রজন্ম : আপনার বানানো এ্যাপস ভ্যাটচেকার বাঁচিয়েছে দেশের রাজস্ব। ব্যতিক্রমী এ্যাপসটির কথা কিছু বলুন-

জুবায়ের : পণ্য কিনে ক্রেতা-বিক্রেতাকে মূল্য পরিশোধ করছেন, সঙ্গে সরকারকে দেয়ার জন্য দিচ্ছেন হিসাব অনুযায়ী ভ্যাট। কিন্তু বিক্রেতা সেই ভ্যাট সরকারকে না দিয়ে করছেন চুরি, ভরছেন নিজ পকেটে। যখন ভ্যাট চুরির এমনই হিড়িক চলছিল সারাদেশে। তখন তৈরি করি ভ্যাটচেকার যা চুরির কোটি কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে দিতে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে বাধ্য করেছিল। এই এ্যাপ বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা উদ্যোগ হওয়ার সম্মান। সেই সঙ্গে ব্র্যাক আয়োজিত মন্থন ডিজিটাল ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ডসহ এবারের জাতীয় মোবাইল এ্যাপ এ্যাওয়ার্ডে ভ্যাটচেকার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। গত এক বছরে কয়েক শ’ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি থেকে বেঁচে গেছে আমাদের দেশ এই মোবাইল এ্যাপটির সহযোগিতায়।

ডিপ্রজন্ম : আপনার বানানো এ্যাপস টপটিউব বাংলাদেশী এ্যাপস হলেও সেটা সেভাবে এদেশের মানুষ জানেনি কেন বলে আপনি মনে করেন?

জুবায়ের : আমাদের দেশের মানুষ সহজ সরল কিন্তু কিছুটা হুজুগে। আমাদের মার্কেটিং গ্যাপ ছিল। আর টপটিউবের এ্যালগরিদম বিস্ময়কর আর আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মের জন্য তৈরি করা তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছে। তারা এর গুরুত্ব খুব দ্রুত ধরতে পেরেছে এজন্যই হয়ত দেশের থেকে দেশের বাইরে টপটিউবের প্রসার বেশি।

ডিপ্রজন্ম : এতদূর চলে আসার প্রেরণা যারা?

জুবায়ের : সত্যি কথা বলতে কি, আমি নিজেই নিজের অনুপ্রেরণা। সেলফ মোটিভেটেড বলতে পারেন। আমি কাউকে কারও সঙ্গে তুলনা করতে পছন্দ করি না। অনেক সফল উদ্যোক্তা আছে। হয়ত তারা সফল যে কারণে আমি ঠিক সেই কারণে সফল নাও হতে পারি। আমি প্রচ- রকম আত্মবিশ্বাসী। নিজের মধ্যে যা আছে তার সেরাটা দিতে পারলেই আমি আমার বিবেকের কাছে সফল।

ডিপ্রজন্ম : জাতীয় মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হলেন, একবাক্যে অনুভূতি শুনতে চাই-

জুবায়ের : আমরা পুরস্কারের জন্য কাজ করিনি কিন্তু সর্বকনিষ্ঠ উদ্যোক্তা হিসাবে আর সেরা ফলাফলে আমরা অনুপ্রাণিত।

ডিপ্রজন্ম : বাংলাদেশী এ্যাপস রাজ্যের রাজা হিসেবে নতুনদের যারা আইটিনির্ভর কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এ্যাপস তৈরি করে দেশের উন্নয়ন কাজে লাগতে চায়, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন….

জুবায়ের : ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাজার শুধু মোবাইল এ্যাপের। এই সেক্টরে যারা কাজ করতে চান, আমার পরামর্শ হলো নতুন কিছু করেন এবং কাজের কিছু যেটা মানুষের উপকারে আসবে। কাজ করার আগে বাজার যাচাই করে নেয়া সব থেকে জরুরী বিষয়। সফলতা একটা উদ্যোগ থেকে না আসলে আরও বেশি দৃঢ়ভাবে লেগে থাকা উচিত। কারণ, পরের উদ্যোগ থেকে যে সফলতা আসবে সেটা আগের ফেইল হওয়ার সমানুপাতিক।

ডিপ্রজন্ম : ধন্যবাদ জুবায়ের। আরও এগিয়ে যাবেন এবং দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবেন এটা ডিপ্রজন্ম টিমের প্রত্যাশা।

জুবায়ের : ধন্যবাদ আপনাকেও।