বিষমুক্ত ফল বিক্রি করবে ডিএনসিসি

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখা, খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ বন্ধ করার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জানানো হয় এবার বিষমুক্ত ফল বিক্রি করবে সংস্থাটি।

গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় ডিএনসিসির সভাকক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিভিন্ন কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি কাঁচাবাজারে দৃশ্যমান স্থানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য তালিকা স্থাপন করা হবে। এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে গরু ও খাসির মাংসের যে মূল্য নির্ধারণ করা হয় একই মূল্য ডিএনসিসি এলাকার জন্যও প্রযোজ্য হবে।

ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় বাজার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবে। খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগের বিরুদ্ধে এবং দ্রব্যমূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা, সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজার মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের টিমও রমজানের মাসব্যাপী সক্রিয় থাকবে। জনসাধারণকে বিষমুক্ত ফল সরবরাহের জন্য ডিএনসিসির উদ্যোগে নির্দিষ্ট জায়গায় অস্থায়ীভাবে ফল বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে। নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে রমজান শুরুর আগেই সব মসজিদ পরিষ্কার করা হবে এবং আশপাশে মশার ওষুধ ছিটানো হবে। ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ রমজান মাসে নতুন করে রাস্তা কাটার অনুমতি দেবে না এবং চলমান কাজ আগামী ১০ দিনের মধ্যে শেষ করে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ পুরো সামর্থ্য নিয়ে প্রতিদিন ফলের বর্জ্যসহ অন্যান্য বর্জ্য পরিবহন করবে।

সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা তাঁদের পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ থেকে বিরত থাকাসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। সভায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ডিএনসিসির কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বায়তুল মোকাররমে হালাল পণ্যের প্রদর্শনী : এদিকে পবিত্র রমজান মাসে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে হালাল পণ্যের প্রদর্শনী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। মূলত হালাল ভোগ্যপণ্য, কসমেটিকস, ফার্মাসিউটিক্যালস ও অন্যান্য সেবার বিষয়ে ভোক্তাদের সচেতন করা এবং দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকারে হালাল পণ্যের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল সকালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে হালাল পণ্য প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইউনিলিভার, স্কয়ার, প্রাণ আরএফএল গ্রুপ, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ, মডার্ন হারবাল, সজীব গ্রুপসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য কম্পানি অংশগ্রহণ করে। মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশের পণ্যকে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এ উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।