শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে শতবর্ষী মাগুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়

১৮৫৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে এটি ছিল শিবরামপুর গ্রামে যা শহর থেকে তিন কিমি দূরে। পরে মাগুরা শহরে অনা হয়। প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন যোগেন্দ্রনাথ সিনহা। ১৯৭০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৮১ সালের ১ আগস্ট বিদ্যালয়টি ১৩ একর জায়গার বর্তমান ক্যাম্পাসে মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়কের পাশে স্থানান্তর হয়। আগে বিদ্যালয়টি সাবেক মহকুমা প্রশাসক বর্তমানে জেলা প্রশাসকের বাড়ির কাছে ছিল। ওই ক্যাম্পাসে বর্তমানে সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪১ জন প্রধান শিক্ষক দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। সর্ব শেষ প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

 

বর্তমানে বিদ্যালয়ে দ্বিতল একাডেমিক ভবন, খেলার মাঠ পুকুর প্রভৃতি রয়েছে। বিদ্যালয়ে রয়েছে ডবল শিপট। দুই শিপটে ১ হাজার ২শ’ ২০ জন ছাত্র লেখাপড়া করছে। ৫২ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন ৩৮ জন। এর মধ্যে একজন প্রধান শিক্ষক, একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং অন্যরা সহকারী শিক্ষক। ১৪ জন শিক্ষককের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান বরাবর ভালো। এ বছরও এসএসসি পরীক্ষায় ভালো করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

 

ক্রীড়া ক্ষেত্রে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবময় অধ্যায় রয়েছে। ১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্কুল ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হয়েছিল। বিদ্যালয়ের ছাত্র সাকিব আল হাসান ক্রিকেটে বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার। ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে জাতীয় টেলিভিশন স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় এ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, চিকিত্সক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, নাট্যব্যক্তিত্ব রয়েছেন। ২০১৫ সালের ২ জানুয়ারি বিদ্যালয়ে ১৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন ছাত্রদের পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়।

 

প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, বিদ্যালয়ে কোনো অডিটরিয়াম নেই। একটি অডিটরিয়াম দরকার। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ প্রয়োজন।