লিচুর চারায় কোটিপতি

লেখাপড়া শেষ করে কী করবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে ছিল বকুল প্রামাণিক। অনেকটা পথ হেঁটেও মিলছিল না কাক্সিক্ষত সাফল্যের। অবশেষে ২০১৩ সালে লিজ নিলেন কয়েক একর জমি। শুরু করলেন লিচুর চারা উৎপাদন। দেখা পেলেন সাফল্যের। কয়েক প্রজাতির লিচুর চারাসহ বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষের নার্সারি গড়ে আজ প্রায় দেড় কোটি টাকার মালিক বকুল।

রংপুরের মিঠাপুকুরের ধাপ উদয়পুর গ্রামে বকুলের নার্সারিতে সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কয়েক প্রজাতির লিচুসহ বিভিন্ন ধরনের ফলদ বৃক্ষের চারা। ২০১৩ সালে ৩ একর জমি লিজ নিয়ে যে নার্সারি শুরু করেছিলেন তা এখন প্রায় ৮ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। তার নার্সারিতে বেদানা, চায়না-৩ এবং বোম্বে জাতের লিচুর চারা রয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার। এ চারা প্রতিটি বিক্রি করবেন ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। এছাড়াও এখানে লেবুর চারা রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। তাছাড়া হাড়িভাঙ্গা আমের চারার পাশাপাশি রয়েছে আম্রপালি আমের চারাও। এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আম বারিফোঁড়। কাঁচায় যেমন মিষ্টি তেমনি পাকার পর এর মিষ্টতা আরও বেড়ে যায়। বকুলের এ নার্সারিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক কাজ করেন। নিজেও পরিচর্যা করেন চারার। ধাপ উদয়পুর ছাড়াও রামপুরস্থ বকুলের নার্সারিতে সফেদার চারা রয়েছে ৫ হাজার, লটকনের চারা রয়েছে ৪ হাজার, উন্নতজাতের সুপারির চারা রয়েছে প্রায় ৫ হাজার। সব মিলে বকুল প্রামাণিক নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলেছেন চারা উৎপাদনের মধ্য দিয়ে। ঘুচিয়েছেন বেকারত্ব আর সৃষ্টি করেছেন প্রায় অর্ধশতাধিক লোকের কর্মসংস্থান।
বকুল জানান, নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে পারলে সফলতা আসবেই। সবাইকে লেখাপড়া শিখে চাকরি করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বরং নিজ যোগ্যতায় নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করার মধ্যেই রয়েছে মহত্ত্ব। উৎসাহ পাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, যখন চারা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে তখন সেগুলোর মাঝেই এক স্বপ্নের দেখা পান তিনি। আশা জাগতে শুরু করে। মিঠাপুকুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন, তারাগঞ্জের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিলুফা সুলতানাসহ ১৪ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান তালুকদার তার নার্সারি পরিদর্শন করে ভূয়সী প্রশংসা করেন। এটাও তার জন্য একটা বড় পাওয়া বলে মনে করেন তিনি। শুধু অর্থ দিয়েই এ কর্মের মূল্যায়ন করতে নারাজ বকুল। তিনি বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও সমাজের জন্য কিছু করা দরকার। সবুজ বনায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার ইচ্ছে পোষণ করেন তিনি। এলাকাবাসী জানান, এ নার্সারি করার ফলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। একজন সফল মানুষ হিসেবে তারার মতো জ্বলজ্বল করছে বকুলের সাফল্যগাথা।