ফরমালিন জটিলতা কাটিয়ে ত্রিপুরায় মাছ রপ্তানি শুরু

ফরমালিনের অস্তিত্ব মেলার অভিযোগ, রপ্তানি কোড নিয়ে জটিলতা কাটিয়ে প্রায় আড়াই মাস পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানি শুরু হয়েছে। রপ্তানীকৃত মাছ ভারতে পরীক্ষা করে ফরমালিন পাওয়া গেলে ফের আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হবে—ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এমন শর্তেই গতকাল সোমবার তিন হাজার ২০০ কেজি মাছ ভারতের ত্রিপুরায় যায়। বাংলাদেশের মাছে ফরমালিন আছে এমন অভিযোগে গত ৬ মার্চ থেকে ভারতীয়রা আমদানি বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, এখান থেকে রপ্তানি করা মাছের নমুনা সংগ্রহ করে ফের ভারতে পরীক্ষা হবে। ত্রিপুরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় নমুনা মাছ কলকাতায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হবে। এর রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে মাছ রপ্তানি অব্যাহত থাকবে কি না। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই রপ্তানি করা মাছ বাজারজাত করা যাবে। ব্যবসায়ীরা মনে করে, যেহেতু বাংলাদেশের পরীক্ষায় ফরমালিন মেলেনি, সেহেতু সেখানেও মেলার সম্ভাবনা নেই।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের মাছে ফরমালিন আছে এমন অভিযোগে গত ৬ মার্চ থেকে ভারতীয়রা আমদানি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে ভারতে মাছ পরীক্ষা করার শর্তে ফের চালুর সম্ভাবনা দেখা দেয়। কিন্তু মাছের কোডসংক্রান্ত জটিলতায় রপ্তানি কার্যক্রম সপ্তাহখানেক পিছিয়ে যায়।

মাছ রপ্তানি করা প্রতিষ্ঠান ইমাম ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আব্বাস উদ্দিন ভূঁইয়া, স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নিসার উদ্দিন ভূঁইয়া, আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, মাছ রপ্তানিকারক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক জানান, মাছ রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অনেকটা কমে আসে। ভারতীয়রা তাঁদের এখানে মাছ পরীক্ষা করবে এমন শর্তে আমদানি করতে সম্মত হয়। তবে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের চুক্তিপত্রে মাছ রপ্তানির কোডসংক্রান্ত জটিলতায় কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হয়। গতকাল মাছ রপ্তানির আগে স্থানীয় মৎস্য বিভাগের লোকজন বন্দরে উপস্থিত থেকে ফরমালিনের পরীক্ষা করে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রায় আড়াই মাস পর বন্দর দিয়ে তিন হাজার ২০০ কেজি মাছ ভারতে গেছে। মাছ রপ্তানির আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন তা পরীক্ষা করে ফরমালিনের কোনো অস্তিত্ব পায়নি। ’