প্রকাশ্যে এসএমই ঋণ বিতরণ

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) প্রকাশ্যে এসএমই ঋণ বিতরণে নতুন রেকর্ড হয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেশের ৩৫টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১২২ কোটি টাকার এসএমই ঋণ বিতরণ করেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কখনই এক অনুষ্ঠানে এত বেশি এসএমই ঋণ বিতরণ হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে ৮টি জেলার উদ্যোক্তাদের মাঝে এসব ঋণ বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এটি দেশের এসএমই জগতে নতুন মাইলস্টোন, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জানা গেছে, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তথা গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসএমই ঋণ বিতরণে প্রতিটি ব্যাংককে আগ্রহী করে তুলছে। এ কাজে উৎসাহিত হয়েই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন প্রকাশ্যে এসএমই ঋণ বিতরণ করছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দিনাজপুরে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ব্যাংকার-এসএমই উদ্যোক্তা মতবিনিময় সভা এবং প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর রংপুরের আট জেলা রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ৩৭৪ এসএমই উদ্যোক্তাদের মাঝে এ ঋণ বিতরণ করে দেশের ৩৫টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। কৃষিভিত্তিক শিল্প তথা ফুড প্রসেসিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও বেকারি খাতের উদ্যোক্তারা এসব ঋণ নিয়েছেন। এসব ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার ১০ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসএমই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় বলেন, উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে ঋণ পৌঁছে দিতেই এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগে সাড়া দিচ্ছে ব্যাংকগুলোও। এতে প্রকাশ্যে এসএমই ঋণ বিতরণ বাড়ছে। তিনি জানান, দিনাজপুরে এক অনুষ্ঠানেই রংপুর অঞ্চলের ৩৫টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রেকর্ড ১২২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। যাকে এসএমই খাতের জন্য নতুন মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এমন অনেক ব্যাংক রয়েছে, যারা সারা বছরও ১২২ কোটি টাকার এসএমই ঋণ বিতরণ করতে পারে না। তিনি আগামীতে দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে প্রকাশ্যে এসএমই ঋণ বিতরণ করারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আর এ উন্নয়ন নিশ্চিতের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়া সারাদেশে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানা স্থাপনে জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার আলোকে এসএমই খাতকে এগিয়ে নেয়া ও এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ।

এর আগে ২০১৬ সালের আগস্টে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলায় এবং সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মাঝে এসএমই ঋণ বিতরণ করে কয়েকটি ব্যাংক। পরবর্তীতে রাজধানী ঢাকায় নারী উদ্যোক্তা মেলায়ও কিছু ব্যাংক প্রকাশ্যে এসএমই ঋণ বিতরণ করেছে।