১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর দেশ ভয়ঙ্কর এক অন্ধকার অবস্থায় পড়েছিল। সেখান থেকে উদ্ধার করে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে চেষ্টা করে চলছেন সুদীর্ঘ তিন দশকেরও অধিক সময় ধরে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে তাকে স্থায়ী রূপ দিতে, সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, তার সেই মহানুভবতার যথাযথ মূল্য আমরা দিতে পারিনি।

দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায় করেন। যথারীতি সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, অনেক কারণের সঙ্গে সূক্ষ্ম কারচুপির ফাঁদে পড়ে তার দল আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সেই সূক্ষ্ম কারচুপির বিষয়টি তিনি যথার্থই উপলব্ধি করেছিলেন এবং স্পষ্ট করে বলেছিলেন। সূক্ষ্ম কারচুপির কথা শুনে তখন সেসব নিন্দুক হৈচৈ শুরু করেছিলেন তারাই এখন কথায় কথায় সূক্ষ্ম কারচুপির কথা বলছেন অবলীলায়। সেই নির্বাচনের পর দেশে যখন সরকারী ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এগিয়ে চলছিল ঠিক তখনই একের পর এক সব উপনির্বাচনে সূক্ষ্ম থেকে স্থূল কারচুপি শুরু হয়ে গেল, যার নগ্ন বহির্প্রকাশ ঘটে মাগুরার উপনির্বাচনে। সেখান থেকেই শেখ হাসিনা বুঝেছিলেন যে, দীর্ঘ সংগ্রাম করে স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন তা কখনই স্থায়ী রূপ লাভ করবে না যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা না যায়। তাই তো তিনি দাবি জানালেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং তা আদায়ও করলেন। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নিরপেক্ষ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। সরকার গঠন করে শেখ হাসিনা যে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে হেরেছিলেন সেই সাহাবুদ্দীনকেই অনুরোধ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। দলে অনেক ত্যাগী ও বর্ষীয়ান নেতা থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছিলেন শুধু দেশের সর্বোচ্চ পদটিতে কোন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে আসীন করার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে। এই ধরনের উদ্যোগ একমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পক্ষেই নেয়া সম্ভব। কিন্তু এর বিনিময়ে তিনি কী পেলেন? তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের অনেক ভূমিকার জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছে। এই অবস্থার চরম বহির্প্রকাশ ঘটে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রদানের সময় যখন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন তার ভাষণ শুরুর পূর্বে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে এই ভাষণ তার নিজের নয়, তিনি অন্যের লেখা ভাষণ পাঠ করছেন মাত্র। এ কথা সবাই জানে যে সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি সংসদে যে ভাষণ দেন তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেই তৈরি করে দেয়া হয়। যে কথা সবাই জানে তা ভাষণ প্রদানের প্রাক্কালে বিশেষভাবে উল্লেখ করে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তার প্রকৃত মনোভাবই প্রকাশ করেছিলেন। আর সেইসঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ ব্যক্তির নিয়োগের যে মহৎ উদ্যোগ শেখ হাসিনা নিয়েছিলেন তাও ব্যর্থ হয়ে গেল। কেননা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের এই ঘটনার পর আর কেউই দলীয় আনুগত্যের বাইরে অন্য কাউকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অতীতে সবসময়ই এই পদে সরকারী আমলারা দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর পদে বাণিজ্যিক ব্যাংকারদের নিয়োগদানের আবেদন ছিল দীর্ঘদিনের। কিন্তু কোন সরকারই এ ব্যাপারে তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। শেখ হাসিনাই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি এই প্রতিষ্ঠানে একজন প্রখ্যাত বাণিজ্যিক ব্যাংকার লুৎফর রহমান সরকারকে গবর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন। সেই লুৎফর রহমান সরকারই একদিন কোন এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে । তার এই মন্তব্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারকে যথেষ্ট বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। কেননা একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নরের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহল বেশ উদ্বেগের সঙ্গে নিয়েছিল। গবর্নরের এই মন্তব্যকে উল্লেখ করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা নিবন্ধও প্রকাশ করেছিল। অনেক আন্তর্জাতিক ব্যাংক বাংলাদেশের অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ঋণপত্র গ্রহণ করতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছিল। গবর্নরের এমন মন্তব্যের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনার নেতৃত্ব দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকারদের ওপর ন্যস্ত করার যে উদ্যোগ শেখ হাসিনা নিয়েছিলেন তা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি।

১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হয়ে পুরো মেয়াদ অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করে ২০০১ সালে সম্পূর্ণ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন যাকে বলা হয় চেরিমোনিয়াল পাওয়ার ট্রান্সফার। বাংলাদেশের ইতিহাসে আমার জানামতে শেখ হাসিনাই একমাত্র সরকারপ্রধান যিনি চেরিমোনিয়াল পাওয়ার ট্রান্সফার করেছেন। এমন সুন্দরভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কী করুণ পরিণতি হয়েছিল তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে পরবর্তী বছরগুলোতে। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান লতিফুর রহমানের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সব সচিব বদলির নির্দেশ দিয়ে কোন দলকে ক্ষমতায় আনতে হবে তার একটি সুস্পষ্ট বার্তা সর্বত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন। সুতরাং সেই নির্বাচনের ফলাফল যা হবার তাই হয়েছিল। এর পরে হত্যা, গুম, নির্যাতন এমনকি গ্রেনেড হামলা করে একটি দলকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনক্সার মতো অসংখ্য ন্যক্কারজনক ঘটনার ইতিহাস সবারই জানা। তাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চেরিমোনিয়াল পাওয়ার ট্রান্সফারের যে দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা স্থাপন করেছিলেন তার চরম মূল্য তাকে নিজে এবং তার দল আওয়ামী লীগকে দিতে হয়েছিল। এরপরও যত দোষ সব শেখ হাসিনার আর অন্য সবাই ভালর পরাকাষ্ঠা।

সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই শেখ হাসিনাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার ধারণা দেন এবং অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করে তৎকালীন সরকারকে বাধ্য করেছিলেন এই ব্যবস্থা মেনে নিতে। পরবর্তীতে নিজের চোখে এই ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার চক্রান্ত দেখে ভীষণ হতাশ হয়েছিলেন। প্রথমে বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে নিজেদের পছন্দের একজন লতিফুর রহমান খুঁজে বের করার চেষ্টা। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপতি নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তখনকার ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতায় রাখার সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত করেছিলেন। বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইতিহাসে এটাও ছিল একটি নজিরবিহীন ঘটনা যেখানে সকল উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছিলেন। নিজের উদ্ভাবিত পদ্ধতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অপব্যবহার যে কত ভয়ঙ্কর হতে পারে তা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভালভাবেই প্রত্যক্ষ করেছেন। তাই তো এই চক্রান্ত প্রতিহত করতে গেলে এই ব্যবস্থার অধীনে সেনা-সমর্থিত দীর্ঘমেয়াদী সরকারপ্রতিষ্ঠা হলে পরিস্থিতি যে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল তাও দেশবাসী হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছে। তাই শুধু শেখ হাসিনা কেন, যার ন্যূনতম দূরদর্শিতা আছে এমন কোন ব্যক্তিই ভয়ানক অপব্যবহারের সুযোগ সংবলিত এমন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আর বহাল রাখবে না, এটাই স্বাভাবিক। শেখ হাসিনা তবুও আদালতের রায়ের কারণে এই ব্যবস্থা বাতিল করেছেন, অন্য কেউ হলে তো নিজেরাই কলমের খোঁচায় বাতিল করে দিতেন।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাউকে সাধারণত রাষ্ট্রের উচ্চপদে বসাতে দেখা যায় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান, অডিটর জেনারেল, এ্যাটর্নি জেনারেলের মতো রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে কখনই কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাউকে নিয়োগ দিতে দেখা যায়নি। যোগ্যতাসম্পন্ন লোক যে নেই তা নয়। কিন্তু এরপরও কেন যেন এসব উঁচুপদে সংখ্যালঘু কাউকে সচরাচর নিয়োগ পেতে দেখা যায় না। এই ক্ষেত্রেও সেই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই মহানুভবতা দেখিয়েছেন। তার সরকারের আমলেই একজন প্রধান বিচারপতি হলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে। এ কথা ঠিক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে তার যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু তার এই নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর যে পূর্ণ সমর্থন ও সম্মতি ছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রীর এমন উদার সম্মতির পরিণতি এখন তিনি ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পারছেন। প্রধান বিচারপতির নানা মন্তব্য ও বক্তৃতা সরকারকে যথেষ্ট বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। দেশের বিচার বিভাগ যে স্বাধীনভাবে কাজ করছে তার সুনির্দিষ্ট উদাহরণ প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উপস্থাপন করেছেন। যে দেশের উচ্চ আদালত মন্ত্রীদের পর্যন্ত দণ্ড দিতে কোনরূপ সমস্যার সম্মুখীন হয় না, যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও যে দেশের আদালত একজন স্বনামধন্য সাংবাদিক ও কলামিস্টকে নিজেদের ইচ্ছামতো সাজা দিতে পারে সেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই প্রধান বিচারপতির এমন অভিযোগ কতটা বাস্তবসম্মত তা দেশবাসী অবশ্যই বিবেচনা করবে। সবচেয়ে বড় কথা একজন প্রধান বিচারপতি পদে থেকে এ রকম প্রকাশ্যে বক্তৃতা বিবৃতি দিতে পারেন কিনা? আইনমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন যে, বিশ্বের অন্য কোন দেশের বিচারপতি বিচার সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া এত কথা বলেন না। কিন্তু বাস্তবে বিচারকরা বিচারসংক্রান্ত বিষয়েও প্রকাশ্যে কোনরূপ মন্তব্য করেন না। নিজে একজন আইনের ছাত্র হিসেবে এবং বিচারিক বিষয়ে ব্যক্তিগত আগ্রহ থাকায় আমি উন্নত ও অনুন্নত অনেক দেশের বিচারসংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি। কোন বিচারপতির প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন বা সংবাদ আমি কখনই দেখিনি। বিচারপতিরা পদে থাকা অবস্থায় কখনই কোনরকম মন্তব্য করেন না। তারা সর্বদাই টাইট লিফট বা মুখ বন্ধ করে থাকেন। বিচারসংক্রান্ত কোন মন্তব্য থাকলে তা বিচার কাজের নথিতে বা বিচারের রায়ে উল্লেখ করেন। আমাদের বর্তমান প্রধান বিচারপতি একজন রাজনীতিবিদের মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত অনেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নানা মন্তব্য করে চলছেন বা বক্তৃতা দিয়ে চলছেন যার জন্য সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। সরকারের জন্য বিব্রতকর কারণ আদালত অবমাননার ভয়ে এবং বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরকারপ্রধান বিচারপতির মন্তব্যের উপযুক্ত জবাব দিতে পারছেন না। বর্তমান প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা যেভাবে প্রকাশ্যে বক্তৃতা ও মন্তব্য করে চলছেন তা বিশ্বের অন্য কোন দেশের বিচারপতিরা তো কখনই করেন না, এমনকি আমাদের দেশের কোন বিচারপতি এর আগে এমনটা করেননি।

প্রধান বিচারপতি যদি সত্যি মনে করেন যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন নয় এবং তিনি স্বাধীনভাবে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না। তাহলে পদত্যাগ করে চলে যাওয়াই কি উত্তম ব্যবস্থা নয়। যে কোন বিবেকবান মানুষ এটাই করবেন। অহেতুক কথার ঝড় তুলে পরিস্থিতি জটিল করে তুলবেন না। সেটা না করে পদে আসীন থেকে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় বা বেকায়দায় ফেলার মতো বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে যাওয়া কতটা বিচারপতিদের কোড অব এথিকেসের মধ্যে পড়ে তা প্রধান বিচারপতির চেয়ে দেশের আর কারও ভাল জানার কথা নয়। একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যকে প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দানে পূর্ণ সমর্থন দেয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপনের যে উদারতা শেখ হাসিনা দেখিয়েছিলেন তার প্রতিদান তিনি ভালভাবেই পাচ্ছেন।

দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এভাবেই অনেক মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, যে শেখ হাসিনার নেয়া অনেক মহৎ উদ্যোগ যে বৃথা গেছে শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রেই বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে। এরপরও তিনি এ রকম মহৎ উদ্যোগ নেয়া থেকে পিছপা হবেন না বরং অব্যাহতই রাখবেন, কেননা তিনি যে বঙ্গবন্ধুকন্যা।