দুঃখী মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, দুঃখী মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। বাসস।তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে, যে পর্যন্ত না বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে দুঃখী মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হচ্ছে’। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত সংগঠনের বর্ধিত সভার প্রারম্ভিক ভাষণে তিনি একথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এ দেশের প্রতিটি মানুষ অন্ন পাবে, আশ্রয় পাবে, উন্নত জীবন পাবে এবং আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি নেতা-কর্মীর দায়িত্ব জাতির পিতার সে স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা। তিনি বলেন, এদেশের দুঃখী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হওয়ার আগ পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে এবং জনগণকে সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছানোর জন্য দেশকে সঠিক রাস্তায় পরিচালিত করাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। এটা বারবার প্রমাণিত যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই কেবল দেশের উন্নতি হয়। পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় উদ্বোধনী বক্তৃতা প্রদান করেন। বৈঠকের শুরুতে সংগঠনের দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাম শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় এ সভা শুরু হয়। সভায় সারাদেশ থেকে আগত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, তথ্য গবেষণা ও দফতর সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।বিএনপি চেয়ারপারসন ঘোষিত সাম্প্রতিক ভিশন-২০৩০ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী একটি ভালো জিনিস শিখেছেন বহু যুগ পরে। এত যুগ পরে তাদের মাথায় এলো, তারা ভিশন-২০৩০ দিয়েছে। যাই হোক, মানুষই মানুষের কাছে শেখে। তারা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছে। নকল করে হয়তো পরীক্ষায় পাস করা যায় কিন্তু দেশের জনগণের দায়িত্ব এটা বিবেচনা করার। চুরিবিদ্যা বড়ো বিদ্যা যদি না পড়ে ধরা।সরকার প্রধান বলেন, তারা হত্যা ও সহিংসতার পথ ছেড়ে জাতির সামনে একটা বিষয় তুলে ধরেছে, তবু ভালো। খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ যে এতদিন পরে হলেও ভিশন-২০৩০ এর মতো পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পেরেছেন।বর্ধিত সভায় উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আর এজন্য স্মার্ট, আধুনিক, সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন মোকাবিলা করতে হবে। জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে।আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সদস্য পদ নবায়ন করা হয়েছে।বিশেষ বর্ধিত সভায় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরনো সদস্যের নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীকে আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়। তারা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা বেগম।আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে, নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিয়ে প্রতি তিন বছর অন্তর অন্তর দলের সদস্যপদ নবায়ন করতে হয়। সর্বশেষ ২০১০ সালে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছিল।শেখ হাসিনা সমাপনী বক্তব্যে সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে দলের নিজস্ব কার্যালয় স্থাপনের তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘নিজস্ব অফিস থাকা চাই। আপনারা উদ্যোগ নেন, আমরা সহযোগিতা করব।’