চিত্রকল্প ও রূপকল্প, এগিয়ে শেখ হাসিনা

প্রথম চিত্রকল্পটি সামাজিক মিডিয়া ভাসিয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেরিন ড্রাইভ ওপেন করতে গিয়ে খালি পায়ে সমুদ্রতটে হেঁটেছিলেন। ঘটনা তেমন কিছু না হলেও মানুষের মনে দোলা লেগেছে। যার মূল কারণ দেশের রাজনীতিবিদদের আচার-আচরণ। রাজনীতিবিদরা এখন টাকা-পয়সা কামানো আর মিডিয়ায় এসে কথা বলার বাইরে তেমন কিছু করেন না। যারা বড় এবং ধরা ছোঁয়ার বাইরে তাদের জীবন কৌতূহলের। তাদের সহজ সরল আচরণ কিংবা এমন কোন কাজে মানুষ আগ্রহী হবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এমনিতেই ডাউন টু আর্থ। রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের বাইরে তিনি এমন অনেক কাজ করেন যা মনে করিয়ে দেয় মূলত তাঁর পরিচয়Ñ তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। বিদেশে এমন দৃশ্য নিয়ত দেখা গেলেও দেশে বিরল।

প্রশ্ন হচ্ছে তাঁর এই সহজ জীবনবোধ কি লীগের নেতারা মানেন? এখন রাজনীতির চেহারা মানুষের মনপছন্দ কিছু না। সরকারে থাকা যে কোন দলের নেতারা বেপরোয়া। তাঁরা যখন বিদেশে আসেন তাঁদের শপিং তালিকায় বিদেশীরাও ভড়কে যায়। বিলাসবহুল জীবন-যাপন এখন এদের নিত্যদিনের ব্যাপার। মানুষের মনে আরেকটি বড় প্রশ্নÑ কেন এরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। শেখ হাসিনা সবার ওপরে থেকেও মাটির টানে বাঁধা। তাঁকে আমরা এর আগেও টুঙ্গিপাড়ায় ভ্যানে চড়তে দেখেছি। সে ছবিও মনে মনে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। এবার প্রমাণ হলো তিনি এগুলো সহজভাবে তাঁর জীবনবোধে বজায় রাখেন। কারণ, তিনি মাটির মেয়ে। এই দেশ মাটি নদী সবুজ নীলে তিনি একাকার।

দ্বিতীয় চিত্রকল্পটি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার। অনেকদিন পর তিনি মিডিয়ায় এসে তাঁর দলের ভিশন ঘোষণা করলেন। ভিশন ২০৩০ বিএনপির জন্য জরুরী। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকে যায়, খালেদা জিয়া তো অমর নন। তাছাড়া বয়সও থেমে থাকে না। একবার কি ভেবে দেখা হয়েছে তখন কত বয়স হবে তাঁর? কিভাবে তিনি এই ভিশন বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবেন? দেখলাম ভাল করে পড়তেই পারছিলেন না। বার বার থমকে থমকে পাঠ করা এই রূপকল্প ও কি খোঁড়া হয়ে থাকবে? অনেকে হয়ত বলবেন, কেন তাঁর দলে কি আর কোন নেতা নেই? তারেক জিয়াই বা কোথায়? এর উত্তরও আমাদের অজানা নয়। আর কোন নেতা থাকলে এই প্রস্তাবনা তারাই পাঠ করতে পারতেন। খালেদা জিয়া শুরু বা শেষে কিছু বললেই চলত। সেটা আমাদের দেশের রাজনীতিতে কখনও হয় না। শুধু তাই নয়, তারেক জিয়া কখন আসবেন আদৌ আসতে পারবে কি-না তাও পরিষ্কার নয়। বিচার ও আইন তাকে ছেড়ে দেবে না। সরকার গঠনও দূরের ব্যাপার। মূলত বিএনপি এখন ঘরহীন একটি রাজনৈতিক দল। তাদের মাথার ওপর ছাদ নেই। জনগণ সঙ্গে আছে কি নেই সেটা পরের বিষয়। তবে এখন তারা দিশেহারা। এই কঠিন সময়ে ভিশন ২০৩০ ঘোষণার কারণ বোঝা গেল না। এটা কি দলীয় মনোবল চাঙ্গা করার জন্য? না এর পেছনে আছে অন্য কোন ইন্ধন?

তবে এই চিত্রকল্পটি এখন জনমনে ছাপ ফেলতে পারেনি। কারণ মানুষ কিছুই বুঝতে পারছে না। তাদের জীবনে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে কালকেই সরকার পরিবর্তনের দরকার পড়েছে। সরকারের সমস্ত সীমাবদ্ধতার পরও উন্নয়ন থেমে নেই। জনমনে এক ধরনের সন্তোষও আছে বৈকি। বিশেষত আর্থিকভাবে ভাল আছে তারা। এমন সময়ে এই রূপকল্প এমন কি নতুন জিনিস বলছে যাতে তারা বিমোহিত হতে পারে?

শেখ হাসিনার ছবি ও নেতৃত্ব এমন এক জায়গায় চলে গিয়েছে যেখানে বিএনপির এসব হাস্যকর ঠেকছে। আবার আরেক নাটক করে চলেছে এরশাদ সাহেব। ঢাল তলোয়ারহীন অর্ধশত দল নিয়ে তিনি দিয়েছেন নতুন জোটের ঘোষণা। এরা আসলে এখন অবসরে যাবার তালিকা পেরুনোর পরও জোর করে থেকে যাওয়ায় এই বিপত্তিগুলো দেখতে হচ্ছে।

আমরা নিশ্চিত জানি মানুষ ভুল করবে না। তারা ঠিকই বুঝে নেবে কোন্টা আসল আর কোন্টা নকল। কোন চিত্রকল্প তাদের জন্য জরুরী। রূপহীন রূপকল্প তাদের মনে দোলা লাগাবে এমনটা মনে হচ্ছে না।

আওয়ামী লীগকে এটা মনে রাখতে হবে শেখ হাসিনা যেভাবে এগিয়েছেন তারা সেভাবে পারছেন না। তাদের হাতে সময় কম। বিএনপি যেহেতু সরকারের বাইরে, তাদের বিষয়ে অভিযোগ কম। তারা অনেকদিন লুটপাট করারও সুযোগ পায়নি। দেশে এটা প্রায় নিয়ম যে, যারা সরকারী দল মানেই কম পপুলার। তাছাড়া বদনাম ও বদকাজ তো আছেই। আছে পাকি মনোভাব। আছে জামায়াত-হেফাজত। সে জায়গায় নিজেদের সংহত করা ও আগামীবারের জন্য তৈরি করাটা জরুরী।

বিএনপি কিন্তু এবার নামছে। তাদের মোকাবেলা করাটা সহজ হবে না। এখন অবধি চিত্রকল্পে শেখ হাসিনাই এগিয়ে, বাকিটা দল ও নেতাকর্মীদের কাজের ওপর নির্ভর করবে।

খালেদা জিয়ার রংধনু জাতি আসলে কি সেটা বোঝানোর কাজে নামুক লীগ। সময় মতো তা করতে না পারলে ভাগ্য কোন্ দিকে চাকা ঘোরাবে তা কেউ বলতে পারে না।