সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা বাড়ছে

সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি সামগ্রিক অর্থেই ইতিবাচক বলে আমরা মনে করি। একইসঙ্গে এটাও কাম্য যে, ভাতা ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে সামনে রেখে এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১০ ধরনের ভাতার হার বাড়ছে। একই সঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আমরা মনে করি, ভাতার হার বৃদ্ধি এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে যারা প্রাপ্য তারাই যেন সুবিধা পায় এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে কোনো প্রকার বিড়ম্বনা ছাড়াই যেন সুবিধাভোগীদের সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিত হয় এমনটি জরুরি।
প্রসঙ্গত, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে ১০ ধরনের ভাতা বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতাদের জন্য ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা ভাতা, প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি, হিজড়া জনগোষ্ঠীর ভাতা, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভাতা বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধারা চলতি অর্থবছর থেকে দুটি উৎসব ভাতাও পাবেন। ১০ হাজার টাকা করে বছরে মোট ২০ হাজার টাকার এ ভাতা পাবেন। একইসঙ্গে আগামী অর্থবছর থেকে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তরাও বিশেষ আর্থিক সুবিধা পাবেন। ইতিমধ্যে এসব ভাতা ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনও দেয়া হয়েছে।
আমরা মনে করি, যখন এসব ভাতার হার বৃদ্ধি ও উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে, তখন তা নিশ্চিতভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। বলার অপেক্ষা রাখে না, বয়স্ক মানুষ, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা বা সামগ্রিক অর্থে অসহায় জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিঘি্নত হলে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। আর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে আর্থিক স্বচ্ছলতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রকৃত অর্থে প্রাপ্যদের এই সুবিধার আওতায় এনে ভাতা প্রদান নিশ্চিত হলে তা সার্বিক অর্থেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিভিন্ন সময়েই পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সৃষ্ট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এমন বিষয় সামনে আসে যে, স্বামী কর্তৃক নির্যাতিতরা অসহায় হয়ে পড়েন, বয়স্কদের দেখার কেউ থাকে না, দরিদ্র মায়ের মাতৃকালীন সময়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহান, এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিগুলো সার্বিক অর্থেই উদ্বেগজনক। সংগত কারণেই বর্ধিত ভাতা এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে সামনে রেখে সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নে অসহায় জনগোষ্ঠীর জীবন-মান বৃদ্ধি পাবে বলেই আমরা মনে করি।
তথ্য মতে, আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে বয়স্ক ভাতাপ্রাপ্তদের সংখ্যা বর্তমান ৩১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩৫ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের সংখ্যা ১১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১০ ভাগ বাড়িয়ে ১২ লাখ ৬৫ হাজার, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীরা উপকারভোগীর সংখ্যা সাড়ে সাত লাখ থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে আট লাখ ২৫ হাজার। হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অধীনে বিভিন্ন স্তরের প্রদেয় বিশেষভাতা-বয়স্কভাতা উপকারভোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৯৭০ জন থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে সাত হাজার ৫৫০ জন। বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অধীনে উপকারভোগীদের এ খাতের বরাদ্দ ছয় কোটি ৩২ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি ৬৮ লাখ উন্নীত করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি আরও এগিয়ে যাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশ বিপুল জনগোষ্ঠীর দেশ। ফলে আর্থিক সামর্থ্যকে বিবেচনা করে অনেক ক্ষেত্রেই উদ্যোগ গ্রহণ কঠিন। তবু অসহায় ও সামজিকভাবে নিরাপত্তাহীন জনগোষ্ঠীর বিষয়টিকে সামনে রেখে আগামীতে আরও বেশি উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার আমলে নেবে এমনটি কাম্য। এ ছাড়া নানা সময়েই, অনেকদিন ধরে ভাতা বন্ধ, ভাতা প্রাপ্তিতে বিড়ম্বনাসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে। আমরা মনে করি, এই বিষয়গুলো আমলে নিয়ে পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্টরা কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত হোক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।