বন পাহারায় ২১ নারী

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য পাহারায় বনকর্মীদের পাশাপাশি পাহারা দিচ্ছে ২১ নারী পাহারা দল। সংরক্ষিত বনাঞ্চল সহব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে ৫৪ পুরুষের পাশাপাশি তারা নিয়মিত পাহারা দেন প্রায় ৪,৭১৭ হেক্টর বনাঞ্চল। বনকর্মীদের সঙ্গে রুটিন করে পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন দলে জঙ্গলে দায়িত্ব পালন করেন তারা। পেট্রলং ডিউটিতে থাকাবস্থায় ইউনিফর্ম, জাঙ্গল বুট, হুইসেল, রেইনকোট, ছাতা ও বাঁশের লাঠি থাকে তাদের হাতে। বন থেকে অবৈধ কাঠ আহরণকারী, বন্যপ্রাণী শিকারিদের ধাওয়া করা, বনের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে বন বিভাগকে জানানো ও বন রক্ষায় এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টি করাই তাদের কাজ। ইউএসএআইডির ক্রেল প্রকল্পের মাধ্যমে সহব্যবস্থাপনা কমিটি (সিএমসি)। প্রকল্পের আওতায় ‘আমরা প্রকৃতিকে বাঁচাব আগামী প্রজন্মের জন্য’ এই স্লোগান নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে বন বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে বনের চার পাশের জনপদের অধিবাসীদের প্রতিনিধি ও সংশিল্গষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ২৯ সদস্যের এই কমিটি প্রতি মাসে একবার সভা করে। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে বন ব্যবস্থাপনা ও বনসম্পর্কিত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই সহব্যবস্থাপনা কমিটির তত্ত্বাবধানে কয়েকটি টহল দল গঠন করা হয়। এই দলগুলোকে কমিউনিটি পেট্রলিং গ্রুপ (সিপিজি) বলা হয়। এদের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৭৫ জন। এর মধ্যে নারী ২১ জন। কয়েকটি দলে দিনে দু’জন ও রাতে দু’জন পুরুষ সদস্য এবং শুধু দিনে দু’জন নারী সদস্য বন বিভাগের সঙ্গে বন পাহারায় নিয়োজিত থাকেন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘নারীরা শুধু নাগরিক নন, তারা এ পৃথিবীর উৎপাদন, উন্নয়ন, সৃজনশীলতার প্রধান অংশ।’