‘এমডিজি’র মতো এসডিজি বাস্তবায়নেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুটেস রাজ্যের বোস্টনে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের উন্নয়ন শীর্ষক কনফারেন্সে বক্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এন্ট্রিপ্রিনিউরশিপসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে, যা উভয় দেশকেই সমানভাবে উপকৃত করছে। এমডিজি’র মতো এসডিজি বাস্তবায়নেও সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস্ অঙ্গরাজ্যের বোস্টনে অবস্থিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে এ কথা বলেন বক্তরা।
এতে অংশ নেন জাতিসংঘ ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারের প্রতিনিধিরা, হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত নীতি-নির্ধারক, থিংক ট্যাংক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
শিক্ষক, গবেষক, নীতি নির্ধারক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত এ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থ-বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মূখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এনডিসি, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ ব্যবসা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সফল বাংলাদেশিরা।
আঙ্কটাড্ নিউইয়র্ক এর প্রধান সান্তাল রাইন কারপেনটিয়ার, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সাবেক উপ-প্রধান ডেভিড মিয়েলি এবং ইউএনসিডিএফ এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর রুথ গুডউইন গ্রয়েন তাদের বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সরকার অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে এবং উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ এসডিজির লক্ষ্যসমূহ অর্জনে ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া রুথ গুডউইন গ্রয়েন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই এর প্রশংসা করে বলেন, ডিজিটাল ফিনানসিয়াল ইকোসিস্টেম বাস্তবায়নে এটুআই তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে যা এজডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অপরিহার্য।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরিটাস ও বোস্টন ইনস্টিটিউট ফরেেডভোলপমেন্ট ইকোনমিক্স এর প্রেসিডেন্ট গুস্তাব পাপানেক বলেন, অর্থনৈতিক মন্দার কারনে যেখানে বিশ্বের অনেক দেশের প্রবৃদ্ধি কমেছে সেখানে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে ৬ ভাগের ওপরে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে যা বর্তমানে ৭ ভাগের ওপরে। ৮০ শতাংশ থেকে দারিদ্র্য কমে বর্তমানে ৩০ শতাংশ এর নিচে নেমেছে। রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে যা বিশ্বের অনেক দেশের পক্ষেই সম্ভব হয়নি।
ড. মশিউর রহমান উপস্থিত ব্যবসায়িক প্রতিনিধিসহ বিনিয়োগকারীদের এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিনিয়োগকে সহজ করার ক্ষেত্রে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সামর্থ্য বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে। দেশের উদ্যেক্তাদের সমন্ধে তিনি বলেন, নিজস্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দিয়েই আমাদের এন্ট্রিপ্রিনিউরগণ দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
উন্নয়ন অর্থায়নে ঘাটতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে এসডিজি বাস্তবায়নের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মূখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মাইক্রো সেভিংস মডেল বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভূক্তিকরণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমরা মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠান সমূহকে গতিশীল করতে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়ন করেছি। বাংলাদেশ ডেল্টা প্লান তৈরি করার শেষধাপে রয়েছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বাংলাদেশের এসডিজি বাস্তবায়নে এই সেমিনার অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশসমূহে অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা দূরীকরণে জাতিসংঘসহ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে জাতিসংঘের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের গ্লোবাল এনট্রিপ্রিনিউরশীপ প্রোগামের পরিচালক থমাস ই. লার্সটেন বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এন্ট্রিপ্রিনিউরশিপসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে যা উভয় দেশকেই সমানভাবে উপকৃত করছে।
এছাড়া প্যানেলিস্ট ও বক্তারা অংশগ্রহণকারীদের বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কিত ও এসডিজি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।মানসম্মত শিক্ষা, প্রযুক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক দক্ষতা বৃদ্ধি সহায়ক নীতি প্রণয়ন করে বাংলাদেশ উন্নয়ন চ্যালেঞ্জসমূহ সহযেই মোকাবিলা করতে পারবে বলে সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞগণ মতামত প্রদান করেন।