সম্মাননা পেলেন ৩৩ মা

শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা ৩৩ জন মাকে ‘রত্নগর্ভা মা’ সম্মাননা দিয়েছে আজাদ প্রডাক্টস। বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে গতকাল রবিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাধারণ বিভাগে ২৫ মাকে এবং বিশেষ বিভাগে ৮ মাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ‘মাই ড্যাড ওয়ান্ডারফুল’ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে সাবেক পুলিশপ্রধান নাট্যজন ড. এম এনামুল হককে।

ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাবেক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান, সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অনামিকা হক লিলি। স্বাগত বক্তব্য দেন আজাদ প্রডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। আজাদ প্রডাক্টসের দুই পরিচালক অনামিকা আজাদ ও জিয়াউর রহমান আজাদ ভবিষ্যতেও এ সম্মাননা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০০৩ সাল থেকে আজাদ প্রডাক্টস রত্নগর্ভা সম্মাননা দিয়ে আসছে। এবার ছিল ১৪তম আসর।

এবার বিশেষ বিভাগে এই সম্মাননাপ্রাপ্ত আটজন হলেন রাবেয়া খাতুন, নিয়তি ভৌমিক, ফজিলাতুন নেছা, ফরিদা আক্তার বেগম, হামিদা আক্তার খাতুন, রেনু রায়, রাশিদা বেগম ও দীপিকা বড়ুয়া।

সাধারণ বিভাগে সম্মাননাপ্রাপ্ত ২৫ জন হলেন জাকিয়া খানম, মেহেরুন্নেসা, আনোয়ারা বেগম, নাসরিন পারভীন, রাকিবা খানম, ফরিদা হোসেন, সামসুন নাহার, রাবেয়া রহমান, আনোয়ারা রহমান, রিজিয়া আলম, হাজেরা আক্তার, ফরিদা বেগম বেবী, রাধা দেওয়ানজী, আলম আরা বেগম, খুশনাহার বেগম, মাজেদা বেগম, রজিফা বেগম, দিলারা মেসবাহ, রাবেয়া খাতুন, সাধনা রাণী চাকমা, গীতিকা পোদ্দার রেখা, বীণাপাণি ঘোষ, আনোয়ারা বেগম, বিলকিস আমিন ও জাহানারা বেগম।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘সন্তানরা সফল হলে আমরা বাবাকে কৃতিত্ব দিই। কিন্তু মায়েরা মেধা, শ্রম ও মায়া-মমতা দিয়ে সন্তানদের বড় করে তোলেন। সম্মাননাপ্রাপ্ত মায়েরা তাঁদের সন্তানদের পরিপূর্ণ মানুষ করে তুলেছেন। ’

মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘আমাদের মায়েদের আরো সচেতন হতে হবে। আমরা এখন দেখছি, আমাদের ছেলেমেয়েরা জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তির দিকে ঝুঁকছে। তারা যেন ভুল পথে চলে না যায়, আমাদের মায়েদের আগের থেকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। ’

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি খুব অল্প বয়সে মাকে হারিয়েছি। আমি তাই সব সময় মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। এই আনন্দ কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব নয়। আমি সন্তানদের বলব, মাকে বেশি বেশি ভালোবাসুন, সময় দিন। ’