হাতপাখায় অভাব ঘুচেছে দুই শতাধিক পরিবারের

হাতপাখা বুনছেন এক গৃহিণী _যাযাদিগাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীর দুই গ্রামের নারী-পুরুষ সুতা দিয়ে রং-বেরংয়ের বিভিন্ন ডিজাইনের হাতপাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ওই দুই গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের মানুষ প্রতিদিন হাতপাখা তৈরি করে। তৈরি করা পাখা খুচরা ও পাইকারীভাবে বিক্রয় করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে অনেক পরিবার। ওখানকার তৈরি পাখা ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন মানুষের কাছে বেশ প্রিয় হয়ে উঠেছে।
সাদুল্যাপুর উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত রসুলপুর ইউনিয়নের আরাজি ছান্দিয়াপুর ও জামালপুর ইউনিয়নের বুজরুক রসুলপুর গ্রাম। ওই দুই গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের শতকরা ৮০ ভাগ নারী-পুরুষ অন্তত বছর ধরে সুতার তৈরি রং-বেরংয়ের বিভিন্ন ডিজাইনের হাতপাখা তৈরি করে আসছে। ওই দুই গ্রামের সমন্বয়ে এলাকার মানুষ গ্রামটির নাম (খামারপাড়া) অথবা পাখার গ্রাম নামেই চেনেন।
আরাজি ছান্দিয়াপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল খালেক বলেন, গত ২০ বছর আগে এক সময় প্রচ- গরমে মানুষ যখন ওষ্ঠাগত ঠিক তখন নীজের প্রয়োজনে সুতা দিয়ে হাতপাখা তৈরি শুরু করে গ্রামের দুই-একজন নারী। পরে তৈরি করা এসব পাখা দেখে অন্য নারীরাও বাড়িতে গিয়ে পাখা তৈরি শুরু করে। এরপর আস্তে আস্তে আশপাশের পরিবারের নারীরাও সুতা কিনে বাড়িতে বসে হাতপাখা তৈরি শুরু করে।
সরেজমিন দুই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বাড়িতে আঙ্গিনার মধ্যে পাটি ও পিড়াতে বসে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পাখা তৈরি করছেন। আবার নারী-পুরুষরা দলগতভাবে আলাপ, হাসি-ঠাট্রার মাধ্যমে কেউ সুতা গোছানো, কেউ বাঁশ কাটা, চাক তৈরি আবার কেউ সুই দিয়ে সেলাই ও রং বেরংয়ের ডিজাইন তৈরি করছেন। গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের ৮০ ভাগ মানুষ পাখা তৈরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বর্তমানে ওষ্ঠাগত গরম বৃদ্ধির কারণে পাখা তৈরিতে দিনদিন আরও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গ্রামের নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরা। সুতার তৈরি প্রতিটি পাখা ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করে পাঁচ-সাত টাকা লাভ হয়। কিন্তু বর্তমানে সুতা ও বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভ কম হয়।
পাখা তৈরি কারিগর আনোয়ার হোসেন, রহিমা বেগম বলেন, বর্তমানে দুই গ্রামের নারী-পুরুষ মিলে প্রতিদিন গড়ে অন্তত পাঁচশ’ থেকে এক হাজার পাখা তৈরি করা হয়। এসব তৈরিকৃত পাখা জেলার চাহিদা মিটিয়ে রংপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে নিয়ে যান। এ ছাড়া তৈরিকৃত পাখা বিভিন্ন গ্রামে, বাজার, দোকান ও মেলায় নিয়ে গিয়ে ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রির করা হয়।
মিনা বেগম বলেন, বিভিন্ন প্রকারের প্রতিটি পাখা তৈরি করতে বাজার থেকে ১২ টাকার সুতা, দুই টাকার বাঁশের হাতল, দুই টাকার সুতা মোড়ানোর কাপড় ও পারিশ্রমিকসহ প্রায় ২০ টাকা খরচ করতে হয়। এতে একটি পাখা বিক্রয় করলে লাভ হয় পাঁচ টাকা অথবা ১৫ টাকা। প্রতিদিনের বিক্রি করা পাখার আয় থেকে তারা পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক একেএম মুশফিকুল ইসলাম বলেন, পাখা তৈরি দুই গ্রামে তিনি গিয়েছিলেন। তাদের সহায়তা দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।