নকশিকাঁথায় বোনা যে জিপিএ-৫

অভাব-অনটনের প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মোক্তারা পারভীন ও কামরুন্নাহার _যাযাদিএকই উঠানে থাকা দুই পরিবারে অভাব-অনটন লেগেই আছে। দিনান্তে যেখানে পান্তা ফুরায়, সেখানে আবার পড়াশোনা! এ তো বোঝার ওপর শাকের আঁটি। কিন্তু এই প্রতিকূলতায় মাথা নোয়াবে না সমবয়সী খালা-ভাগনি। কাঁধে কাঁধ রেখে তারা অদম্য অটল-পড়াশোনা করবেই। পড়াশোনার খরচ জোটাতে আয়ের পথ খুঁজে নিল তারা। শুরু করল নকশিকাঁথা সেলাই। এই আয়ে পড়াশোনা করে এসএসসিতে দু’জনই পেয়েছে জিপিএ-৫।
তারা হলো মোক্তারা পারভীন (১৫) ও তার ভাগনি কামরুন্নাহার (১৫)। একটা যুদ্ধে তো জয় হলো। সামনে বন্ধুর পথ। এ পথে তারা কতটা এগোতে পারবে বা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে কি-না, এ নিয়ে দু’জনই এখন শঙ্কিত।
ঢাকা বোর্ডের অধীন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে এই দুই শিক্ষার্থী। দু’জনই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো কলেজে ভর্তি, পড়াশোনার খরচ জোগানো ইত্যাদি নিয়ে চিন্তিত তাদের অভিভাবকরা।
মোক্তারার বাবা রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের মকবুল হোসেন পেশায় দিনমজুর। মা মমেলা বেগম গ্রামে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজ করেন। অন্যদিকে কামরুন্নাহারের বাবা একই গ্রামের আবদুল কুদ্দুছ রিকশা চালান। মা মনিকা বেগম দর্জির কাজ করেন।
মমেলা বেগম বলেন, মোক্তারার বাবা দিনমজুরের কাজ করে অনেক কষ্টে সংসার চালান। অভাব-অনটনের সংসার তাদের। মেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত করতে চাইলেও তাদের তেমন সামর্থ্য নেই।
একই অবস্থা মমেলার মেয়ে মনিকা বেগমের স্বামী আবদুল কুদ্দুছের। তাদের কারোরই বসতভিটা ছাড়া কোনো ধানি জমি নেই। কায়িক পরিশ্রমের ওপরই সংসার চলে। সেখানে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করা বেশ কঠিন।
এসএসসি পরীক্ষা দিতে কাজে নামতে হয় মোক্তারা ও কামরুন্নাহারকেও। খালা আর ভাগনি মিলে গ্রামের নারীদের জন্য নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। এই বাড়তি উপার্জন ও কিছু মানুষের সহযোগিতায় শেষতক এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে তারা। জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দের চেয়ে এখন তাদের ভাবনায় ভিড় করছে ভবিষ্যতের চিন্তা। তাদের স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার। তাই এইচএসসির পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা চায় তারা।
ঝিনাইগাতীর মালিঝিকান্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মোক্তারা ও কামরুন্নাহারকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। তাদের অর্জন আমাদের গর্বিত করেছে। খালা-ভাগনি দু’জনই খুব মেধাবী। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে তাদের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’