ঝিকরগাছায় দেশীয় পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ

জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক আলী হোসেন এবারও দেশীয় পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ করেছেন। এতে তার হিমাগারে ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে ২ লাখ টাকা। তেমনি গুণগতমান ঠিক থাকায় বাজারে এর চাহিদাও বেড়েছে। ২০১৬ সালে নিরাপদ (বিষমুক্ত) সবজি উৎপাদনে তিনি জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। কৃষি মন্ত্রণালয় তাঁকে ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ পুরস্কৃত করা হয়। কৃষক আলী হোসেন যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউপির বোধখানা গ্রামের মৃত রহমত আলী মোড়লের ছেলে।

এলাকাবাসীর কাছে তিনি একজন আদর্শ কৃষক হিসেবে পরিচিত। এবছর তিনি দেশীয় পদ্ধতিতে অভিনব কায়দায় সংরক্ষণ হিমাগার তৈরি করে সাড়ে ১৩০০ মণ আলু সংরক্ষণ করেন। বসতবাড়ীর পাশেই তিনি নিজস্ব পদ্ধতিতে ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থ এবং উচ্চতায় ৭ ফুট সাইজে ৬টি ঘর নির্মাণ করেন। গোলপাতার ছাউনিযুক্ত এ ঘরগুলো ভূমির এক ফুট উপরে বাঁশের মাচা করে চারপাশে বাঁশের বেড়ার সঙ্গে জাল দিয়ে ঘেরা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের উপরে ঝুলছে একটি করে বৈদুতিক ফ্যান। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে তার এ ব্যবস্থা।

কৃষক আলী হোসেন জানান, চলতি বছরসহ নিজস্ব ক্ষেতের উৎপাদিত আলু এ পর্যন্ত ৩ দফায় সংরক্ষণ করেন। ৩ বছর আগে তার ওই ছয়টি ঘর তৈরি করতে মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ৯০ হাজার টাকা। এ ঘরগুলোর স্থায়ীত্ব আগামী ৫ বছর পর্যন্ত ধরে রাখা যাবে।

তিনি বলেন, সাড়ে ১৩০০ মণ আলু হিমাগারে রাখলে প্রায় ১ লাখ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে হতো। অথচ মাত্র তিন মাস রেখে এ আলু বাজারে বিক্রি করলে লাভ হয় ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা। তারপরও বস্তা, প্যাকেজিং, যাতায়াত খরচ তো রয়েছে। আর এ পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণে এসব খরচের প্রয়োজন হয় না।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসছে রমজান মাসে সংরক্ষিত আলুর উপযুক্ত বাজারমূল্য পাবেন। আলী হোসেন ৩৫-৪০ বিঘা জমিতে নানা ফসলের চাষাবাদ করে থাকেন। তিনি অধিকাংশ কৃষি জমিতে কেঁচো কম্পোস্টের জৈবসার, সেক্সফেরেমন ফাঁদ, বদৌ মিকচার, জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেন। তিনি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক কম ব্যবহার করেন। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেন বলেন, কৃষক আলী হোসেনকে ফসল উৎপাদনে সার্বিক পরামর্শ ও উৎসাহ দেয়া হয়েছে।