দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনা

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, পর্যটন কেন্দ্র, বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি চলছে রেল, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও। বিশ্লেষকদের মতে, অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ভীত মজবুত হবে।

ভৌগোলিক অবস্থানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, ফেনীসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর একপাশে বঙ্গোপসাগর। অন্যদিকে পাহাড়, টিলা, সমতলভূমি সমন্বয়। ধান, লবণ, চিড়িং, কাঁকড়া চাষ ও পর্যটন এখানকার অর্থনৈতিক কর্মকা-ের চালিকাশক্তি। তবে, এর বাইরে চট্টগ্রাম বন্দর ও ওই অঞ্চলে গড়েওঠা শিল্পকারখানায় জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েক লাখ লোক। আর সরকার এ অঞ্চলকে ঘিরে নিয়েছে মহাপরিকল্পনা। এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুই-তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হবে এবং অনেক ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হয়ে যাবে। এরই মধ্যে চট্টগ্রামে মিরসরাই, আনোয়ারায় ২ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, কক্সবাজারে ২টি ট্যুরিজম অঞ্চল, মহেশখালীতে মাতারবাড়িসহ বেশ কয়েকটি বিদ্যুত কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা আছে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণেরও। অবকাঠামো উন্নয়নেও রয়েছে পরিকল্পনা।

পরিকল্পনা রয়েছে সাগরের কোল ঘেষে মেরিন ড্রাইভ চট্টগ্রাম থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া, রেলপথ নির্মাণ, কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, রাস্তা প্রশস্তকরণ। এছাড়াও বঙ্গোপসাগরের খনিজ অনুসন্ধান ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা। অঞ্চলভিত্তক পরিকল্পনা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। সিপিডি অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শিল্পায়নের একদিক যেমন ইতিবাচক অন্যদিক তেমন পরিবেশ, নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই দিকটি সমভাবে মাথায় রেখে এগুতে হবে। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মতো অন্যান্য অঞ্চলেও আলাদা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করতে পারলে সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র ফুটে উঠবে বলে মত বিশ্লেষকদের।