কুমিল্লার পাখি দরদী এক অধ্যাপক

কুমিল্লার কৃষক বন্ধু ও পাখিপ্রেমী অধ্যাপক মতিন সৈকত বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০টি চিল অবমুক্ত করেন। গত সোমবার কালবৈশাখি ঝড়ে আহত চিলগুলো জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খুঁজে বের করে বাড়িতে এনে চিকিত্সা সেবা দিয়ে সুস্থ করেন। গত ১০ বছরে চিকিত্সা দিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রজাতির ৩৫০টি পাখি অবমুক্ত করেন। মতিন সৈকত জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং কৃষি পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি। জানা যায়, দাউদকান্দির বিভিন্ন এলাকার প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ দেশের মধ্যে একটি মডেল। জল যেখানে মাছ সেখানে, আর মাছ যেখানে পাখিও সেখানে। চিল, ঈগল, বক, পানকৌড়ি, পরিযায়ীসহ বহু পাখির প্রধান খাদ্য মাছ হওয়ায় ওই এলাকার প্লাবনভূমি ঘিরে হাজারো পাখির বসবাস। মত্স্য খামারিরা চাষের ছোট মাছকে রক্ষার জন্য জাল ও সুতা দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে রাখেন। এতে অনেক পাখি আটকে আহত হয়ে ঝুলে থাকে, কখনো মারা যায়। মতিন সৈকত আহত পাখি খুঁজে বের করে চিকিত্সা সেবা দিয়ে সুস্থ করে মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেন।

এলাকার লোকজন জানান, বিভিন্ন পাখি ছাড়াও বন্যপ্রাণী উদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তিনি ভূমিকা রাখছেন। মতিন সৈকতের দেখাদেখি স্থানীয় শিশু-কিশোররা পাখি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এগিয়ে এসেছে। এলাকায় কোনো পাখি আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ডাক পরে। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে ২০১৫ ও ২০১৭ সালে ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। কৃষিতে অবদানের জন্য ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী তাকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রদান করেন। সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের জন্য ১৯৮৭ সালে তিনি ১০ম শ্রেণিতে পড়ার সময় রাষ্ট্রপতির অভিনন্দনপত্র পান। কৃষকবান্ধব মতিন সৈকত ১৯৯৭ সাল থেকে আজ অব্দি একটানা ২০ বছর পৌষ থেকে বৈশাখ পর্যন্ত বিঘা প্রতি মাত্র ২শ’ টাকায় বোরো ধানের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করে আসছেন- যা অন্যত্র খরচ হয় ১২শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। তিনি বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উত্পাদন আন্দোলন দাউদকান্দি মডেল উপজেলা বাস্তবায়নের উদ্যোক্তা। প্লাবন ভূমিতে মত্স চাষের ‘দাউদকান্দি মডেল’ এর সাথেও তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন। জানা যায়, ‘দি ক্রপ ক্রসেডার, এ রিয়েল পেট্রিয়ট, এ ম্যান টু বি ফলোইড এ্যান লাইটেড মতিন সৈকত’ নামে তার কাজের উপর প্রতিবেদন বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়। তাকে নিয়ে শাইখ সিরাজ, রেজাউল করিম সিদ্দিকী, রামেন্দু মজুমদার, মুন্নী সাহা অনুষ্ঠান করেছেন। সম্প্রতি বিবিসি তার সাক্ষাত্কার প্রচার করেছে।

স্থানীয় এমপি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া জানান ‘মতিন সৈকত নিবেদিতভাবে দীর্ঘ ২০ বছর যাবত্ কৃষির উন্নয়নে কাজ করে বিশেষ অবদান রেখে আসছেন, যা সকলের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।’ মতিন সৈকত জানান, ‘২০০৬ সাল থেকে এই পর্যন্ত আমি ৩৫০টি নানা প্রজাতির আহত পাখি চিকিত্সা সেবা দিয়ে অবমুক্ত করেছি। কৃষির উন্নয়নে এলাকার কৃষকদের সহায়তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করার ক্ষেত্রে আমি আনন্দ পাই।’