বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে বাংলাদেশ

মরক্কোর মারাকাশ জলবায়ু সম্মেলনে এবার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। কার্বন নিঃসরণ কমানো ও জলবায়ু তহবিলে অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে নেতৃত্বের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারিস চুক্তি কার্যকরের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেন।
মোতাহার হোসেন
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন বাঙালিকে, বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে। পাশাপাশি এ দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সুখী সমৃদ্ধ দেশ উপহার দিতে। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন পর্যায়ে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের পর্যায়ে ঘাতকচক্র স্বপরিবারে জাতির জনকসহ তার পরিবারের সদস্যদের (শুধু তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা ছাড়া) সবাইকে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ দুই দশক দেশে চলেছে স্বৈরশাসন। তারপর গণতন্ত্রের লেবাসে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে আরও পাঁচ বছর। এভাবে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি, ক্ষুধা, দারিদ্র মুক্তির পাশাপাশি দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার স্বপ্ন, পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে। দীর্ঘ দুই দশক পরে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে আবার তার পিতার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যে তার এসব কর্মসূচির সুফল পেতে শুরু করেছে দেশের মানুষ। শুধু তাই নয়_ একই সঙ্গে বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষকে বিশ্বদরবারে সম্মানের, মর্যাদার, গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করতে সমর্থ হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থায় উচ্চ আসনে তথা নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত আছে বাংলাদেশ।
আজ বাংলাদেশের নেতৃত্ব বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এটা দিবালোকের মতো সত্যি। একজন নাগরিক হিসেবে নিজেকে এ গৌরবের, মর্যাদার, নেতৃত্বের ভাগিদার, অংশীদার ভাবতে ভালো লাগে। মনটা আনন্দে পুলকিত হয়ে ওঠে। গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ দেশ, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, ক্ষুধা, দারিদ্য পীড়িত দেশে মানবতার সেবায় জাতিসংঘের আহ্বানে নিরন্তর নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনা, বিমান, নৌ, পুলিশসহ বাহিনীর সদস্যরা। এ মহাকর্মযজ্ঞে নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত রয়েছে বাংলাদেশ। এটি সম্ভব হয়েছে গণতন্ত্রের মানসকন্যা এবং বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা নিরন্তর কাজ করার কারণেই। শেখ হাসিনার সরকার ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর সেই অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনেকাংশে সফল হয়েছেন।
বিশ্বের বহু দেশে বহু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন ‘রোল মডেল’ তথা আদর্শ। একথা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়, বিশ্ব নেতারা, বিশ্বের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, নোবেল বিজয়ীরা বলছেন। বিশ্বব্যাংক প্রধান কিছুদিন আগে ঢাকা সফরে এসে বলেছেন, ‘দারিদ্র্য জয়, ক্ষুধা মুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল। অনুরূপ মন্তব্য করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘হলে জাতি হিসেবে বাঙালি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পথ সুগম হবে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ ক্রমাগত মর্যাদা ও সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হচ্ছে।
জনসংখ্যা এখন আর সমস্যা নয়, বরং দক্ষ জনশক্তিই বিপুল সম্ভাবনার ক্ষেত্র। ১৬ কোটি মানুষের মেধা আর ৩২ কোটি দক্ষ কর্মীর হাতের পরশে যে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। কী নেই আমাদের। বাংলাদেশের মাটির নিচে লুকিয়ে আছে সম্পদের বিশাল ভা-ার। তেল, গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর, তামা, লোহা, গন্ধক, নুড়িপাথর, শক্ত পাথর ও বালুর মতো অফুরন্ত সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলেই হলো। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ থেকে ক্রমেই শিল্পনির্ভর দেশে পরিণত হচ্ছে। নানা সম্ভাবনার বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে, এ মাটির সন্তানরাও সর্বত্র মেধা, বুদ্ধি, দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে দেশ-জাতিকে আরও গৌরবদীপ্ত করে তুলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অন্তত ২৪টি প্রতিষ্ঠান ও শীর্ষপর্যায়ের পদ-পদবিতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জের মরমি কবি ও গবেষক ইবনে সালেহ মুনতাসির রচিত ‘নিয়ামতপুরী বাংলাদেশে’ শীর্ষক লিরিকটি যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তার লিরিক হচ্ছে : ১৬ কোটি জনগণের দেশ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ/ক্ষমতা লিপ্সু কিছুসংখ্যক রাজনীতিকের কারণে হতে পারে না শেষ/দেশ ও দশের জন্য কখনো কাঁদেনা তাদের মন বিচার মানে তবে তালগাছটা তাদের করেছে যেন পণ রাষ্ট্রক্ষমতার সংস্কার তারা কখনো করতে চায় না/ ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর আইনি সংস্কারে সাহস দেখাতে পারে না/ সুবিধাবাদ আর ক্ষমতার বলয়ের স্বাদ গঞ্জে থাকে চির বিভোর/ ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে আপ্রাণ অসুর তাদের চোখে তারাই সেরা ভরতে চায় শুধু ডেরা/দেশটার মালিক যেন তারাই বাজার শুধু দেশ প্রেমের সানাই_ তারা হাসলে জনগণ হাসবে তারা কাঁদলে জনগণ কাঁদবে/ ক্ষমতায় বসানো যেন পাপ সব কিছু বিকিয়ে দিয়েছ ভাব ইবনে সালেহ মুনতাসির বলেন : লাল-সবুজ পতাকার দেশ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ/লক্ষ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত আর লক্ষ শহীদানের রক্তে সিক্ত প্রিয় এ দেশ/ মুক্তিসংগ্রামের লড়াই চলছে চলবে অর্জিত হবে শেষমেশ/ নিয়ামতপুরী বাংলাদেশে মুক্তি অর্জিত হবেই হবে আইনের শাসনের শীতল ছায়াতলে আসবে প্রশাসন/ আইনি সংস্কারের ডঙ্কা বাজছে ভীষণ ক্ষীপ্রবেগে/ তীব্র বেগে শাসক-শোষকদের কাজ হবে শোষণ তোষণ/ সুশাসনের পরশ পাথরের ছোঁয়া জাগাবে যে আকর্ষণ এটি খুবই যথার্থ যে, বিশ্বের বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের আসনে রয়েছে বাংলাদেশ।
গত কয়েক বছরে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন। আসছে এপ্রিলে ঢাকায় বসছে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক এই সংস্থার সম্মেলন। আইপিইউ হচ্ছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সংসদীয় সংস্থা। ১৮৮৯ সালে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর সদস্য রাষ্ট্র ১৭১ এবং সহযোগী সংস্থা ১১। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ এই সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। সংস্থার বর্তমান প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। সংসদীয় সংলাপে ও মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদান, পার্লামেন্ট এবং পার্লামেন্ট মেম্বারদের মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, যোগাযোগ ও সহযোগিতা প্রদান, আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে মতামত প্রকাশ, সংসদীয় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের স্বার্থে মানবাধিকার রক্ষণ ও উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করা আইপিইউর অন্যতম উদ্দেশ্য।
কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ), জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ মানবাধিকার কাউন্সিল, আইটিআই, ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল স্যাটেলাইট অর্গানাইজেশন, এশিয়া-প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট ফর ব্রডকাস্টিং ডেভেলপমেন্টের মতো প্রভাবশালী সংগঠনেরও মূল দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক এসব সংগঠনে হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনের মধ্যেই বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছেন। তা ছাড়া বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও বরাবরের মতো নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যের সংগঠন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি নির্বাচিত হন সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। ১২৫ বছরের বনেদি এই সংগঠনটি বিশ্বের সংসদীয় রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত। এই প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি সংগঠনটির সভাপতিত্ব লাভ করল। একইভাবে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর এমপিদের সংগঠন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ১৯৭৩ সালে কমনওয়েলথে যোগদানকারী বাংলাদেশ এবারই প্রথম নেতৃত্ব দেয়ার কর্তৃত্ব পেয়েছে। ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক ফোরামে নারী নেতৃত্বও বিশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ১৭৫টি আইনসভার ৩২১ জন ভোটার ছিলেন। বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বরাবরের মতো নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে জাতিসংঘ মিশনে প্রায় ১০ হাজার সেনা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর হয়ে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর ‘থ্যাঙ্কস এ পিস কিপার’-এর ব্যানারে এক কংগ্রেশনাল সংবর্ধনায় ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন-ইউএনএ এবং বেটার ওয়ার্ল্ড ক্যাম্পেইন যৌথভাবে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়।
বাংলাদেশের পক্ষে ওয়াশিংটন বাংলাদেশ দূতাবাসের রাজনৈতিক কাউন্সিলর নাঈম উদ্দিন আহমেদ এই অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইসমত জাহান ‘নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য বিলুপ্ত কমিটির (সিডো) সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট ফর ব্রডকাস্টিং ডেভেলপমেন্টের (এআইবিডি) নির্বাচনে দুই বছরের জন্য সহসভাপতি নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। কম্বোডিয়ায় সংগঠনটির ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে গোপন ব্যালটে এ নির্বাচন হয়। এটি টেলিভিশন ও রেডিওর সক্ষমতা ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত ২০টি দেশের প্রভাবশালী সংগঠন হিসেবে পরিচিত রয়েছে। রাসায়নিক অস্ত্রনিরোধী বিশ্বসংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনেরও নেতৃত্ব লাভ করেছে বাংলাদেশ। ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী চিকিৎসক শাফি আহমেদ ব্রিটেনে ‘সবচেয়ে প্রভাবশালী’ বাংলাদেশি হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন। ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার অ্যান্ড ইনসপায়ারেশন’ (বিবিপিআই) তাকে এ সম্মাননা দিয়েছে। তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থায় অভিনব চিন্তার প্রয়োগ, কঠোর পরিশ্রম ও তুখোড় মেধা দিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেন। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি তৈরি করে অপারেশন থিয়েটারের ৩৬০ ডিগ্রি দেখানোর মাধ্যমে তিনি একযোগে ১৩২টি দেশের ১৪ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্রেনিং দিতে সক্ষম হন। চিকিৎসক শাফির ভিন্নধর্মী এই উদ্যোগ চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির ক্ষেত্রে ‘পথিকৃৎ’ বলে মনে করছে বিবিপিআই।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্রি টিউলিপ সিদ্দিক। লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত টিউলিপ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে জায়গা করে নিয়েছেন রূপা হক। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ২২ হাজার ২ ভোট পেয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংস্থা ঙচঈড চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ঙচঈড’তে বাংলাদেশ স্থায়ী প্রতিনিধি শেখ মুহম্মদ বেলালের এই সংস্থার নির্বাহী পরিষদের চেয়ারপারসন পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে চার বারের মধ্যে দুই বার ভারত এবং শ্রীলংকা ও ফিলিপাইন একবার করে চেয়ারপারসনের দায়িত্বে নির্বাচিত হয়েছেন। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রভাকর মেনন ছিলেন পরিষদটির প্রথম চেয়ারপারসন।
মরক্কোর মারাকাশ জলবায়ু সম্মেলনে এবার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। কার্বন নিঃসরণ কমানো ও জলবায়ু তহবিলে অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে নেতৃত্বের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারিস চুক্তি কার্যকরের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেন।
ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সভাপতি হিসেবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব পালন করছেন দেশের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আশরাফুল হক। এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের এককালের ম্যারাডোনাখ্যাত স্টাইলিশ ফুটবলার, মুক্তিযোদ্ধা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তা ছাড়া বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গনে সম্মানের আসনে রয়েছেন সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজ, তাইজুল, তামিম। একই ভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত হিমালয় জয় করেছেন বাংলাদেশের সাহসী কন্যা নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজনিন, মুসা ইব্রাহিম প্রমুখ।