সাতক্ষীরার বিখ্যাত ল্যাংড়া, আমরুপালি ও হিমসাগর আম এবারো যাচ্ছে বিদেশে

সাতক্ষীরার বিখ্যাত আম এবারো যাচ্ছে বিদেশে। গত বছরের তুলনায় এবার আম রপ্তানি হবে ১৮ মেট্রিক টন বেশি। ৪০ হাজার কেজি (৪০ মেঃ টন) আম ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে কয়েক ধাপে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে আম চাষীদের।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সাতক্ষীরায় গোবিন্দ ভোগ, বোম্বাই, লতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আমরুপালি আম বিদেশে রপ্তানি হয়। গত বছর সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলা থেকে ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে ২২ মেট্রিক টন আম রপ্তানি হয়েছিলো। এবারো এসব দেশে আম রপ্তানি করা হবে। যার লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ মেট্রিক টন।
সাতক্ষীরা একটি সম্ভাবনাময় জেলা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, গত বার দুটি উপজেলায় আম চাষীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু রপ্তানি বৃদ্ধি করতে এবার সকল উপজেলায় আম চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। তাদেরকে আম বাগান পরিচর্যার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলায় ৩৯৫০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ১৫৩০ টি, কলারোয়ায় ১৩১০ টি, তালায় ১৪৫০ টি, দেবহাটায় ৪৭৫ টি, কালিগঞ্জে ৪২ টি, আশাশুনিতে ১৯০ টি এবং শ্যামনগর উপজেলা থেকে ০৫ টি আমবাগান রয়েছে।
এসব বাগানের আম এবার বিদেশে রপ্তানি করা হবে। তিনি বলেন, জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম দিক থেকে এসব বাগানের আম পেড়ে তা বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর বি ফুড, শিউলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মরিসন এন্টারপ্রাইজ, এম কে ইন্টারন্যাশনাল, ন্যানো গ্রæপ ও ইসলাম এন্টারপ্রাইজ সাতক্ষীরা থেকে গত বছর আম নিয়ে বিদেশে রপ্তানি করেছিলো। তিনি বলেন, আমের যে ফলন হয়েছে তাতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।
উপ-পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান আরো বলেন, কৃষি অধিদপ্তরের আওতায় এসব আম বাগান পরিচর্যা করা হলেও এখনো আনেক আম বাগান অধিদপ্তরের আওতায় আসেনি। অনেক বাড়ির উঠানে ও বাসা বাড়ির ছাদে আম চাষ হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আগামীতে জেলার আরো বেশি আম বাগান কৃষি অধিদপ্তরের আওতায় এনে আমের ফলন বৃদ্ধি ও জেলার চাহিদা মিটিয়ে আরো বেশি আম বিদেশে পাঠিয়ে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখা হয়েছে।