পাটে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ

২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে ৭৩ কোটি ১০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা, যা এ সময়ের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের তুলনায় এ খাতের পণ্য রপ্তানি আয় ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৪ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কু-লী রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪৪ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।
এতে আরও জানানো হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরে এই খাতের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১৭ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কু-লী রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৫৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার; পাটের সুতা ও কু-লী রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ কোটি মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭০ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৭৩ কোটি ১০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের তুলনায় এ খাতের রপ্তানি আয় ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরের এ সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৬৪ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।
ইপিবির হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে কাঁচা পাট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এ সময়ে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৪ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের আয় ৩৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১০ কোটি ২০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পাটের সুতা ও কু-লী রপ্তানিতে ৪৩ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ সময়ে আয় হয়েছে ৪৪ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে পাটের সুতা ও কু-লী রপ্তানিতে ৪০ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছিল।
চলতি বছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতের আয় ১৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৯ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।