সাভারেও চাষ হচ্ছে জারবেরা

পৃথিবীব্যাপী জনপ্রিয় ফুল জারবেরা। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আজকাল যেকোনো ফুলের দোকানে গেলেই চোখে পড়ে জারবেরা ফুল। বাংলাদেশে জারবেরার চাষ বাড়ছে। আগে শুধু যশোরেই এ ফুলের চাষ হতো। এখন গাজীপুর ও সাভারেও জারবেরা চাষ হচ্ছে।

রাজধানীর খুব কাছেই এক সবুজ দ্বীপ যেন সাভারের মোগড়াকান্দা গ্রাম। গত সোমবার সাভারের এই গ্রামে চোখ আটকায় একটি জারবেরার বাগানে। বাগানে কাজ করছেন পাঁচজন শ্রমিক। দুজন ম্যানেজার তদারক করছেন। তাঁরা জানালেন, এ বাগানে হলুদ, সাদা, কমলা, ফিরোজা, মিষ্টি গোলাপি আর গোলাপি রঙের এগারো প্রজাতির জারবেরা ফুলের চাষ হচ্ছে।

বাগানের কর্মচারী মনিরুজ্জামান বললেন, ঢাকায় এ ফুলের পাইকারি বাজার রয়েছে। প্রতিদিন বাগান থেকে ফুল তুলে তা র‌্যাপিং ও বাক্সবন্দী করে পাইকারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। পাইকারি দরে প্রতিটি ফুল বিক্রি হয় ১০ থেকে ১৫ টাকা। ফুলের দোকানে বিক্রি হয় ২০ থেকে ৫০ টাকা করে।

মনিরুজ্জামান জানান, প্রথমে বেশি বিনিয়োগ করতে হয়। তবে চার বছর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ফুলের লাভ পাওয়া যায়। প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয় এই বাগান থেকে।

একটি জারবেরা চারা থেকে চার বছর একাধারে ফুল পাওয়া যায়। একটি ফুল শুধু পানিতে বেঁচে থাকে ১৫ দিন অবধি। একটি গাছ প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০টি করে ফুল দেয়। তবে প্রকারভেদে। একটি জারবেরা শেড তৈরি করতে প্রয়োজনীয় ছায়াযুক্ত ৫০ ভাগ আলো-বাতাস লাগে। চারদিকে পোকামাকড় থেকে রক্ষা ও সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখতে শেড তৈরি করতে হয়।

গাজীপুরে ও সাভারে দুটি জারবেরা বাগান করেছেন এই বাগানের মালিক। তিনি জানালেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের ফুলের বাজারে চাহিদার তুঙ্গে যে ফুলগুলো রয়েছে, তার মধ্যে জারবেরা অন্যতম। বাংলাদেশে জারবেরা চাষ বৃদ্ধি বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে বাজারে ২ থেকে ৩ হাজার ফুলের চাহিদা থাকে।

এই গাছ দেখতে গুচ্ছাকার বা ঝোপাল ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণত সারা বছরই অল্প পরিমাণ ফুল ফুটলেও এপ্রিল-মে মাসে বেশি ফুল ফোটে। বাংলাদেশে শীতকালে এবং শীতের শেষের দিকে এর চাষ বেশি হতে দেখা যায়। জারবেরা দ্রুত বর্ধনশীল একটি ফুল-ফসল।