৫৬০ মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হবে

১২ জেলায় হচ্ছে আইটি পার্ক

সৌদি আরব সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় দেশের সব জেলায় নির্বাচিত উপজেলাগুলোতে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ১২ জেলায় আইটি পার্ক নির্মাণ করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এ সংক্রান্ত আলাদা দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ২০ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৯ হাজার ৬৭৩ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী, জুয়েনা আজিজসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ১২ জেলার পর ভবিষ্যতে অন্য জেলাগুলোতেও একটি করে আইটি পার্ক নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ভবিষ্যতে এলএনজি টার্মিনাল সমুদ্রে বা পানিতে তৈরি না করে ভূমিতে তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী টেলিটককে আগামীতে বিদেশি কম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো জানান, নগর দারিদ্র্য-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প গতকাল একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও প্রধানমন্ত্রী সেটি অনুমোদন দেননি। কারণ প্রধানমন্ত্রী চান না বস্তির সংখ্যা বেড়ে যাক। বস্তিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে উন্নয়ন করে লাভ নেই। এ জন্য তিনি বস্তিবাসীর জন্য সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করা যায় কি না সে রকম প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহায়তা কামনা করেন। আর মসজিদ নির্মাণ-সংক্রান্ত এত বড় প্রকল্প এর আগে বাংলাদেশে হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফরের সময় সৌদি বাদশার কাছে এ প্রস্তাব দিলে তিনি সাদরে গ্রহণ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭১.৬ বছর হয়েছে। এর আগে তা ছিল ৭০.৯।

গতকাল একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিটি জেলার নির্বাচিত উপজেলাগুলোতে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, ৬৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে টেলিটকের থ্রিজি প্রযুক্তি চালু এবং ২.৫ জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, এক হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা পর্যায়ে আইটি পার্ক স্থাপন, তিন হাজার ২৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী ও গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ, এক হাজার ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ এবং ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকায় তিনটি পাইকারি কাঁচাবাজার নির্মাণ।