মার্কেটের ছাদে খামার

মঈনুল হাসান রতন। তিনি একাধারে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও সাংবাদিক। তার প্রিয় শখ পশুপাখি লালন-পালন। আর এ শখ পূরণেই শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার নিজ মার্কেটের ছাদে গড়ে তুলেছেন পশুপাখির খামার। শুরুতে শখের খামার হলেও এখন তা বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এ থেকে বেশ ভালোই উপার্জন হচ্ছে তার।
আলাপকালে সাংবাদিক রতন জানান, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে কবুতর পালনের প্রস্তুতি নেন তিনি। প্রথমে রাজধানীর বাড্ডা থেকে একজোড়া গিরিবাজ কবুতর কেনেন। এরপর ধীরে ধীরে সিরাজী, বিউটি হুমার, কালো কিংসহ পাঁচ প্রজাতির কবুতর সংগ্রহ করে পালন করতে থাকেন তিনি। এসব কবুতরের জন্য নিজেদের মার্কেটের তৃতীয় তলার উপরে একটা খামার করেন। ধীরে ধীরে এগুলো বাচ্চা দিতে থাকে। এখন তার খামারে ১০০ জোড়া কবুতর রয়েছে। এরই মধ্যে বিক্রি করেছেন কবুতরের অনেক বাচ্চা। অনেকেই এগুলো কিনে নিয়ে বাড়িতে পুষছেন। ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ছাদের উপরে তৈরি ঘরে তিনি পালন করছেন খরগোশ, ঘুঘু, টার্কি মুরগি, সরাইলের আঁছলি মোরগ, তিতির মুরগি ইত্যাদি। ব্যবসা ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি খামারে পশুপাখির তিনিই নিয়মিত পরিচর্যা করেন। দুইবেলা খাবার দিতে হয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিছন্ন করেন। এ পর্যন্ত তিনি কবুতর, খরগোশ, ঘুঘু, তিতির, টার্কি, আঁছলি মুরগি বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে অনেকেই খামার গড়ে তুলেছেন। রাসেল মিয়া নামে এক যুবক বলেন, রতন ভাইয়ের কাছ থেকে কবুতর কিনে লালন-পালন করছি। এতে আমি সফলতার মুখ দেখছি। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ ইসহাক মিয়া জানান, সাংবাদিক রতন শখ করে বিভিন্ন জাতের কবুতর পালন শুরু করেছেন। একই সঙ্গে পালন করছেন খরগোশ, ঘুঘু, টার্কি মুরগি, সরাইলের আঁছলি মোরগ ও তিতির মুরগি। এর মধ্যে টার্কি মুরগি পালন করা বর্তমান সময়ে ভালো উদ্যোগ। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টার্কির মাংস বেশ জনপ্রিয়। পাখির মাংসের মধ্যে হাঁস, মুরগি, কোয়েলের পর টার্কির অবস্থান। এ মাংসে প্রোটিন বেশি, চর্বি কম এবং অন্যান্য পাখির মাংসের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। পশ্চিমা দেশগুলোতে টার্কি খুব জনপ্রিয়। যে কোনো পরামর্শ দিতে আমরা প্রস্তুত।