আলুর পাপড়ে সচ্ছল ৪০০ পরিবার

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামে আলুর পাপড় তৈরি করে ৪ শতাধিক পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই গ্রামের নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে আলুর পাপড় তৈরি করেন। আর এ পাপড় তৈরি করেই তারা দূর করেছেন সংসারের অভাব-অনটন। বাজারে হাতে তৈরি আলুর পাপড়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা ওই গ্রামে এসে পাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
জানা যায়, মাঘ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত আলুর পাপড় তৈরি করা হয়। ওই সময় আবহাওয়া ও রোদ থাকায় নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে আলুর পাপড় তৈরি করেন। বাজার থেকে ৪০০ টাকা দরে প্রতি মণ আলু কেনা হয়। ৫ মণ আলু সিদ্ধ করে কেটে রোদে শুকিয়ে এক মণ শুকনো পাপড় তৈরি করা হয়। এক মণ শুকনো পাপড় তৈরি করতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হয়। সময় লাগে ২ দিন। আর প্রতি মণ আলুর পাপড় বিক্রি করা হয় ৪ হাজার টাকায়। বাজার মূল্য ভালো থাকায় লোকসান গুনতে হয় না।
সরেজমিন শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ৪ শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ আলুর পাপড় তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ আলু সিদ্ধ করছেন, কেউ আলু কাটছেন, আবার কেউ কাটা আলুর পাপড়গুলো রোদে শুকানোর জন্য ছালার ওপর বিছিয়ে দিচ্ছেন। পাপড় তৈরি করা নারীরা জানান, বাজার থেকে (ক্যাটিলাল, গ্যানিলা, ডায়মন্ড) আলু ক্রয় করে এনে সে আলুগুলো সিদ্ধ করা হয়। তারপর আলুগুলো পাতলা করে কেটে রোদে শুকিয়ে তৈরি হচ্ছে পাপড়। সেই শুকনো আলুর পাপড় বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে ওই গ্রামের পরিবারগুলো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তাদের তৈরি আলুর পাপড় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তারা আরও জানান, এ আলুর পাপড় তৈরি করতে একঠু পরিশ্রম বেশি হলেও লোকসানের মুখ দেখা হয়নি আজ পর্যন্ত। যেসব ব্যবসায়ীর পুঁজি বেশি, তারা আলু কিনে পাপড় তৈরি করে সংরক্ষণ করেন।
শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের আলুর পাপড় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫ মণ আলু সিদ্ধ করে কেটে সেগুলো রোদে শুকিয়ে ১ মণ শুকনো পাপড় তৈরি করা যায়। ১ মণ শুকনো পাপড় তৈরি করতে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হয়। সময় লাগে ২ দিন। আর ১ মণ আলুর পাপড় বাজারে বিক্রি হয় ৪ হাজার টাকায়। ২ দিনে লাভ হয় দেড় হাজার টাকার মতো। বাপ-দাদার এ ব্যবসা এখনও আমরা ধরে আছি। ওই গ্রামের আমেনা খাতুন বলেন, সংসারের সব কাজ শেষে করে অবসর সময়ে আলু সিদ্ধ করে তা রোদে শুকিয়ে পাপড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে ভালোই লাভ হয়। কিন্তু পুঁজি বেশি না থাকায় বেশি করে আলু কিনতে পারি না। সরকার সহজ কিস্তিতে ঋণের ব্যবস্থা করলে আমাদের মতো গরিব মানুষ এ ব্যবসা করে লাভবান হবে।
আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান বলেন, শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের অধিকাংশ মহিলা সংসারের কাজের ফাঁকে আলুর পাপড় তৈরি করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন।