কৃষকের মুখে ফুলের হাসি

বাঙালীর ১২ মাসে ১৩ পার্বণ। ফলে বছরজুড়েই থাকে ফুলের চাহিদা। বিশেষ দিনে প্রিয় মানুষকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান অনেকেই। আর তাই নববর্ষ কিংবা বিভিন্ন উৎসবে ফুলের কদর একটু আলাদাই থাকে। ফুল বৈশাখের অন্যতম অনুষঙ্গ। ফুল ছাড়া বৈশাখী উৎসব ভাবাই যায় না। বৈশাখের ফুলের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেন চাষীরা। অন্য যে কোন দিবসের মতো বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিতেও আমাদের দেশে রয়েছে ফুলের ব্যাপক চাহিদা। তাই বৈশাখ উপলক্ষে বাহারি ফুলের দেখা মেলে বাজারগুলোতে। ফুলকে ঘিরেই রয়েছে হাজার আবেগ, ভালবাসা, উচ্ছ্বাস, সাফল্যের নিয়ামক হিসেবে ব্যবহৃত হাজার উদাহরণ। আর এই ফুল এখন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দিনে দিনে গড়ে উঠেছে। কম পুঁজিতে ব্যবসা সম্ভব বলে তরুণ উদ্যোক্তারা ফুলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হচ্ছেন। বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ শুরু হয়। বর্তমানে খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। মোট উৎপাদিত ফুলের ৩১ শতাংশ গ্লাডিওলাস, ২৪ শতাংশ গোলাপ, ১৯ শতাংশ রজনীগন্ধা। প্রতিহেক্টর জমিতে খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসলের তুলনায় ফুল চাষ বেশি লাভজনক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গাসহ ২৪টি জেলায় ১০ সহস্রাধিক হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। যার প্রায় ৭০ ভাগ ফুল উৎপাদন হয় ফুলরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত যশোরের গদখালি এলাকায়। দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ফুল উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫৭ হাজার টন। বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ফুল। ২০১৩-১৪ বছরে উৎপাদিত হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার টন। এভাবে প্রতিবছরই ফুল চাষের জমির পরিমাণ ও উৎপাদন বাড়ছে। পয়লা বৈশাখে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, জিপসি ফুলের বিক্রি বেশি হয়ে থাকে। তাই আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা এসব ফুলের অর্ডার দিয়ে থাকেন চাষীদের। জানা গেছে, বৈশাখে প্রতি পিস গোলাপ ১০-১৫ টাকা, রজনীগন্ধা ৮-১০, গ্লাডিওলাস ১৫-২০ টাকা ও জারবেরা ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। এ দিনে তরুণীরা ফুল দিয়ে বৈশাখী রঙে সেজে থাকেন। মূলত মাথায় ও চুলের খোঁপায় থাকে সাদা, লাল ও হলুদ বর্ণের ফুল। গত সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার গ্লাডিউলাস, গোলাপ, জারবেরা, চন্দ্র মল্লিকা, রজনীগন্ধা, ভুট্টা, হলুদ গাঁদা ফুলের বাণিজ্য হয়েছে । গত বছরগুলোতে এখানকার চাষীরা তাদের উৎপাদিত ফুলের তেমন একটা দাম না পেয়ে যখন হতাশ হয়ে পড়ছিলেন ঠিক তেমন একটা মুহূর্তে এবারের বৈশাখী উৎসবে দেশের ফুলের বাজারগুলোতে ফুলের চাহিদা বৃদ্ধি পায় কয়েক গুণ। এ কারণে ফুলের পাইকারি বাজারগুলোতে বৃদ্ধি পায় ফুলের দাম। যা শেষ পর্যন্ত আকাশচুম্বী রূপ ধারণ করে।