বিষমুক্ত কলা ব্যবসায় সফল সবুর

কোটচাঁদপুরে সবুর খানের বিষমুক্ত পাকা কলা সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে। হাটে বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অধিকাংশ দোকানের পাকা কলায় থাকে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক তরল পদার্থ যা ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হয়। রাসায়নিক পদার্থ পানির সাথে মিশিয়ে কলায় স্প্রে করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাকানো হয়। এতে কলার রং গাড় হলুদ হয় এজন্য ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কিন্তু কলার প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না।
এলাকার কিছু অসাধু কলা ব্যবসায়ীর এভাবে কলায় বিষ দিয়ে পাকাতে দেখে মহেশপুর উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সচেতন ও সমাজ সেবক সবুর খান ব্রিজঘাট আলামপুর বাজারে কলার আড়ৎ নিয়ে বিভিন্ন হাট থেকে পুষ্ট কলার কাদি কিনে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত পদ্ধতিতে ভেজা চটে ৪৮ ঘণ্টা জাগে রেখে পাকিয়ে তা বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করছেন। বাজারে তার কলার চাহিদাও ব্যাপক। এ বিষয়ে সবুর জানান একদিন বাজার থেকে বিষাক্ত কলা কিনে খেয়ে আমি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। সেদিন থেকে ভাবতে থাকি কিভাবে মানুষকে বিষমুক্ত কলা খাওয়ানো যায়। সাথে সাথে নিজের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বিষমুক্ত কলা পাকানোর পদ্ধতি আবিস্কার করেন।
প্রথমে কলার কাদিথেকে ছড়া কেটে সেগুলি পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে কলার স্তূপের ওপর ভেজা চটদিয়ে ঢেকে দিতে হবে। তার ওপর পলিথিনে এমনভাবে ঢাকতে হবে যেন ভিতরে বাতাস ঢুকতে না পারে। এভাবে ৪৮ ঘণ্টা রাখার পর কলা সম্পূর্ণ পেকে যাবে। এ কলা সাদে গুণে অতুলনীয়। সম্পূর্ণ বিষমুক্তভাবে কলা পাকানের ফলে বাজারে আমার কলার চাহিদাও অনেক বেড়ে গেছে। এজন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট আমার একান্ত অনুরোধ যারা খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করে মানুষকে খাওয়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়।