আম বাগানে সাথী ফসলে বাড়তি আয়

ধান চাষের চেয়ে বেশি লাভজনক হওয়ায় নওগাঁর ১১টি উপজেলায় শত শত বিঘা পতিত জমিতে উন্নত জাতের আম বাগান গড়ে উঠছে। আর এসব বাগানে সাথী ফসল হিসেবে সরিষা, ডাল ও গম চাষ করে বাড়তি আয় করছেন কৃষক। শুধু তাই নয়, নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় গত দুই বছর ধরে চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশে রফতানি করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ৫ থেকে ৬ বছর আগে জেলায় মাত্র ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হতো। সূত্র আরও জানায়, এ বছর জেলাজুড়ে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। নওগাঁর পোরশা, সাপাহার, বদলগাছী, পতœীতলা, মান্দা, ধামইরহাট, নিয়ামতপুর ঠাঠা বরেন্দ্রভূমি হিসেবে দেশে পরিচিত। এ অঞ্চলের পানির স্তর মাটির অনেক নিচে হওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময় জমি পতিত থাকে। বর্ষা মৌসুমে ঠাঠা এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমিতে শুধু আমন ধান চাষ করা হয়। ধানের চেয়ে আম চাষে বেশি লাভ হওয়ায় নওগাঁর ১১টি উপজেলার মধ্যে এ অঞ্চলে দিন দিন শত শত বিঘা জমিতে উন্নত জাতের আম বাগান গড়ে উঠছে। ৫ থেকে ৬ বছর আগে জেলায় মাত্র ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হতো। এবছর জেলাজুড়ে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় গত দুই বছর ধরে চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশে রফতানি করা হচ্ছে।
পোরশা উপজেলার নীতপুর বাজার এলাকার বাঙ্গালপাড়ার আমির উদ্দিন জানান, আমের বাগানে সাথী ফসল হিসেবে সরিষা, ডাল ও গম চাষ করে কৃষকরা এক বিঘা জমিতে বছরে লক্ষাধিক টাকা আয় করে থাকেন। এজন্যই এ এলাকার কৃষক আম চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের নুরুজ্জামান জানান, আগে এ এলাকায় ল্যাংরা, ফজলি, খিরশা জাতের আম চাষ করা হতো। বর্তমানে উন্নত জাতের আম্রপালি ও বারি-৪ আম চাষ করা হচ্ছে। সাধারণ জাতের চেয়ে আম্রপালি ও বারি-৪ জাতের আম দ্বিগুণ উৎপাদন ও দাম বেশি পাওয়ায় এ আম চাষে ঝুঁকছেন চাষি। উপজেলার জালুয়া গ্রামের আম চাষি ও শিক্ষক রইচ উদ্দিন জানান, জেলার মধ্যে বিশেষ করে পোরশা অঞ্চলের মাটি এঁটেল; তাই এখানকার আম সুস্বাদু। পোরশার আম বাংলাদেশসহ বিদেশে এর বেশি চাহিদা রয়েছে।
সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আম চাষি নয়ন বাবু জানান, আমের ভরা মৌসুমে আম বিক্রি করার জন্য কোনো পাইকারি বাজার নেই। সে কারণে আম বাগানের মালিক ও চাষিরা আমের ন্যায্যমূল্য পান না। এ সুযোগে ফড়িয়া দালাল ব্যবসায়ীরা লাভবান হন।
সাপাহার উপজেলার সাহাপাড়ার প্রদীপ সাহা জানান, জেলায় আম গবেষণা কেন্দ্র ও আম সংরক্ষণাগার না থাকায় আম চাষিরা আমের কীটপতঙ্গ দমনসহ ফসল উৎপাদনে বাধাগ্রস্ত হন। আম গবেষণা কেন্দ্র ও সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হলে আম চাষিরা বেশি লাভবান হবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সত্যব্রত সাহা জানান, গত ৫ থেকে ৬ বছর আগে জেলায় মাত্র ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হতো। আম চাষিদের কৃষি বিভাগ থেকে সব সময় পরামর্শ দেয়ায় চলতি বছর জেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে । গড়ে প্রতি বছর ১ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে নতুন আম বাগান গড়ে উঠছে। নওগাঁর আম সুস্বাদু হওয়ায় দুই বছর ধরে বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে।