পরিবেশ ও তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নে আরও ৫৯২ কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক

পরিবেশ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত দুটি প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্প দুটিতে আরও ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার ঋণ দেবে সংস্থাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৯২ কোটি টাকা। এ ঋণ ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে পরিশোধ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সাভির্স চার্জ দিতে হবে। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত দুটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা বেগম এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকা অফিসের অপারেশন ম্যানেজার রাজশ্রী এস পারলকার ঋণচুক্তি দুটিতে স্বাক্ষর করেন।
ইআরডির অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা বেগম বলেন, দুটি প্রকল্পের সুফল এরই মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ইতিবাচক বিবেচনায় প্রকল্প দুটির কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তিসংক্রান্ত প্রকল্পের আওতায় সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, এলআইসিটি প্রকল্পে আগে ৭ কোটি মার্কিন ডলার এবং কেস প্রকল্পে ৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের রাজশ্রী পারলকার বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য ইতোমধ্যেই জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্প, স্মাটকার্ড বিতরণ, এনবিআর অটোমেশন এবং ইজিপি বাস্তবায়ন প্রকল্প সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সেই ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তিসংক্রান্ত প্রকল্পে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া কেস প্রকল্পে যানজট ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এনভায়রনমেন্ট (সিএএসই) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থায়ন হিসেবে ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পটি পরিবেশ অধিদফতর, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল। পরবর্তীতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্প এবং ঋণচুক্তির মেয়াদ ২০১৮ সালে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গণপরিবহন ব্যবস্থা
এবং গতানুগতিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যবস্থা ঢাকা মহানগরী বায়ু দূষণের অন্যতম উৎস। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবহন এবং ইট উৎপাদন ব্যবস্থায় উপযুক্ত পরিবর্তন আনার মাধ্যমে বায়ুমান ও যানচলাচলের ক্ষেত্রে গুণগতমান উন্নয়নের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পের প্রধান দুটি অংশ রয়েছে; পরিবেশ এবং যানবাহন। পরিবেশ অংশটি পরিবেশ অধিদফতর এবং যানবাহন অংশটি ডিএনসিসি, ডিএনসিসি ও ডিটিসিএ কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে।
অন্যদিকে লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, ইমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এলআইসিটি) প্রকল্প বাস্তায়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থায়ন হিসেবে ৩ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। সাইবার নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য কাঠামোগত উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় ডাটাবেস সেন্টার এবং জাতীয় ই-আর্কিটেকচার সার্ভিস প্রদান, জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট অবকাঠামো সুবিধা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য করা আইসি সার্ভিসেস বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম এই প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রমগুলো হচ্ছে; বায়ুমান ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, ইটভাটার ধোঁয়া নিঃসরণ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সচেতনতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, ুঢাকা মহানগরীতে পরিবহন গতিশীলতার উন্নয়নের বাস রুট নেটওয়ার্ক যুক্তকরণ, ঢাকা শহরে ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি কার্যক্রম ও খসড়া প্রণয়ন করা হবে।