ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার

ঐক্যবদ্ধভাবে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দিয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সোমবার রাজধানীসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত হয়েছে। দেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের ৪৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঐতিহাসিক এ দিনটি স্মরণে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি স্মৃতিবিজড়িত মেহেরপুরের মুজিবনগরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননেও জাতীয়ভাবে পালিত হয় নানা কর্মসূচী।

দিবসটি পালনে ধানম-ির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে দলীয়প্রধান হিসেবে নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।

এ সময়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোজাফফর হোসেন পল্টু, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, এ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দীপু মনি, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের কাছে প্রদত্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, খালেদা জিয়া ও তাঁর দল বিএনপি চায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি না হোক। এজন্য যত রকম পাঁয়তারা এবং ষড়যন্ত্র করা যায় তা তারা করছে। এটা তাদের অন্যতম একটি মতলব। তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তির বিষয়ে বিএনপি অতীতেও বিরোধিতা করেছে, এখনও করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। এ নিয়ে বলার কিছু নেই। আমাদের কাজ আমরা করে যাব।

তিস্তা চুক্তি যেন না হয়, সেজন্য ভারত সরকারের একজন মন্ত্রী ও তৃণমূলের সঙ্গে বিএনপি যোগাযোগ করেছে বলে কিছু গণমাধ্যমে আসা খবর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শেখ হাসিনা সরকারের আমলের তিস্তা চুক্তি যেন না হয়, সেটা বিএনপির প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। কথায় বলে, যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা’। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি হচ্ছে ইস্যু তৈরির কারখানা। এখন চলছে বিএনপির ভারতবিরোধী ইস্যু। ইতোপূর্বে তারা অনেক ইস্যু তৈরি করেছে। কিন্তু কোন ইস্যুই পাবলিককে খাওয়াতে পারেনি। এবার আবার নির্বাচন নিয়ে ইস্যু তৈরির ষড়যন্ত্র করছে। এটাতেও ব্যর্থ হবে বিএনপি।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিয়েছিলাম যে দেশকে শত্রুমুক্ত করব। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে মোকাবেলা করে আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর দীর্ঘ একুশ বছর এদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী দেশীয় শত্রুরা এখনও নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাদের সমূলে উৎপাটন করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আজকের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররাও শপথ নিয়েছিলেন। একজন সেক্টর কমান্ডারের গড়া রাজনৈতিক দল (বিএনপি) এই দিনটি পালন করে না। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রথম সরকার হলো মুজিবনগর সরকার। তাই ১৭ এপ্রিল জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এর আগে ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আজকের দিনের শপথ। এখন সময় এসেছে ২১ বছর ধরে চলা সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষকে উৎপাটনের। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মৎস্যজীবী লীগ, যুব শ্রমিক লীগ, হকার্স লীগ, তাঁতী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, মোটর চালক লীগ, ওলামা লীগ, জাতীয় বিদ্যুত শ্রমিক লীগ, বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্যজোট, রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক লীগ, নির্মাণ শ্রমিক লীগসহ অসংখ্য দল ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিৃকতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে। ধানম-ি ৩২ নম্বরে সকাল থেকেই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে উপস্থিত হাজার হাজার নারী-পুরুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘জামায়াত শিবির রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘মুজিবের বাংলায় খুনীদের ঠাঁই নাই’, সেøাগান।

এর আগে ভোর সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ধানম-ির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মসূচী শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়াও ফাতেহা পাঠ, বিশেষ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এদিকে স্মৃতিবিজড়িত মেহেরপুরের মুজিবনগরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননেও জাতীয়ভাবে পালিত হয় ঐতিহাসিক এই দিনটি। মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাড়াও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।