নয় মাসে ঋণ কমল ২৫ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা: সরকারের ব্যাংক ঋণ পরিশোধে রেকর্ড

বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নিয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরের জন্য সরকার ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা ধার নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কিন্তু অর্থবছরের ৯ মাস অতিবাহিত হলেও ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার কোনো ঋণ গ্রহণ করেনি, বরং পূর্বের নেওয়া ঋণের রেকর্ড পরিমাণ পরিশোধ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময় পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ৮৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছর শেষে ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে সরকারের ব্যাংক ঋণ কমেছে ২৫ হাজার ৭৮৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের আট মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকার ৩৩ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা পেয়েছে। অর্থাত্ অর্থবছরের ৮ মাসেই মোট লক্ষ্যমাত্রার ১৭০ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রির উল্লম্ফনে বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে না। এতে সরকার ব্যাংকের বিপুল পরিমাণের বকেয়া ঋণ পরিশোধের সুযোগ পেয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। তবে সঞ্চয়পত্রে সরকারকে তিনগুণ বেশি সুদহার পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ব্যাংকের আমানতের তুলনায় সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে দ্বিগুণ সুদ পাওয়া যায়। এতে সাধারণ সঞ্চয়ী মানুষরা এখন আর ব্যাংকমুখী হচ্ছেন না। তারা বেশি মুনাফার আশায় সঞ্চয়পত্র স্কিমে টাকা রাখছেন। যাতে করে সঞ্চয়পত্র বিক্রির পালে হাওয়া লেগেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকের সঙ্গে সুদহারে অনেক বেশি পার্থক্য থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে গড়ে ১১ শতাংশের বেশি সুদ পাওয়া গেলেও ব্যাংকে টাকা খাটিয়ে পাওয়া যাচ্ছে ৬ শতাংশের কম। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্রে বেশি টাকা খাটাচ্ছেন। সরকারের ঋণের চাহিদা জোগান দুইভাবে দেওয়া হয়। এক. বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুই. তফসিলি খাতের ব্যাংকগুলো। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ ’১৭ পর্যন্ত সরকারের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণের পাওনা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছর শেষে ছিল ২১ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। সে হিসেবে অর্থবছরের ৯ মাসে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা শোধ করেছে ১৭ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। এ সময় পর্যন্ত সরকারকে দেওয়া তফসিলি ব্যাংকগুলোর ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছর শেষে ছিল ৮৬ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। সে হিসেবে তফসিলি ব্যাংকগুলোর বকেয়া কমেছে ৮ হাজার ১২১ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, দেশের ব্যাংকগুলোর কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত তারল্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। আর বিনিয়োগ মন্দা পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ অর্থ সরকারের ট্রেজারিতে বিনিয়োগ করতে চাইছে। আগে ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণ দিতে অনীহা দেখালেও বর্তমানে রীতিমতো প্রতিযোগিতা লেগে গেছে। তবে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়ায় সরকারের ব্যাংক ঋণে আগ্রহ কমেছে।